দৌলতপুরে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর পাশে উপজেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
দৌলতপুরে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর পাশে উপজেলা প্রশাসন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশুর চিকিৎসা ও জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে একটি অসহায় পরিবার। অর্থের অভাবে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে শিশু দুটির ভবিষ্যৎ চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জোড়া লাগানো শিশু দুটিকে দেখতে এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে তাদের বাড়িতে যান দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ।
পড়ুন>> হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নাগেশ্বরীতে জাতীয় যুবশক্তির বিক্ষোভ মিছিল
পরিদর্শনকালে ইউএনও অনিন্দ্য গুহ শিশু দুটির বাবা মোঃ নাহিদ হাসান ও পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশু দুটির পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী, গুঁড়ো দুধ এবং নগদ ১,০০০ টাকা ও চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নাহিদ হাসান ও মোছাঃ সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই যমজ কন্যাশিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসকেরা শিশু দুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পড়ুন>> হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে কাউনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপে জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তিন মাস পর আবার ঢাকায় এনে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যার নির্ধারিত সময় এখন প্রায় উপস্থিত। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথ যেন অর্থের কাছে এসে আটকে গেছে।
শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান স্থানীয় একটি দোকানে সামান্য বেতনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাস শেষে তার হাতে আসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালানোর পর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এরই মধ্যে নবজাতক দুই শিশুর দুধ, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি ধারদেনার বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, নবজাতক শিশু দুটির চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া। আমরা আজ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য চেক তুলে দিয়েছি। শিশু দুটির চিকিৎসায় পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির পাশে থাকবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























