যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য, সরকারি তদন্ত এবং স্থানীয় পর্যায়ে বৈরিতার ঘটনা বাড়ায় মুসলিমরা গভীর উদ্বেগে পড়েছেন। বিশেষ করে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা ও মসজিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিরোধিতাও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে টেক্সাসে মুসলিম জনসংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ। গত দুই দশকে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে মসজিদের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৭৬টিতে দাঁড়িয়েছে।
আরভিংয়ের ভ্যালি র্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারের মুসল্লি ঘুলাম কেহার জানান, রাজ্যের নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও পড়ছে। এর ফলে প্রকাশ্যে নামাজ পড়া বা পার্কে বসার সময় মুসলিমরা নিয়মিত কটূক্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২০২৫ সালে, যখন ডালাসের পূর্বাঞ্চলে নতুন মসজিদকে কেন্দ্র করে ‘এপিক সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ পায়।
গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন এবং প্রকল্পটি ঠেকানোর উদ্যোগ নেন। অ্যাবট মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন সিএআইআর-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া টেক্সাসে ইসলামিক চর্চা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা শরিয়াহভিত্তিক ধর্মীয় পরামর্শ ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনে ‘ধর্ম’-এর সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের কথা বলছেন।
স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যালান স্কুলক্রাফট দাবি করেছেন, ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়, এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। মুসলিম নেতা ও আইনজীবীরা বলছেন, ইসলামকে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করে ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করার এই চেষ্টা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা নিজেদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মা//জ//ন
Leave a Reply