পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ (৪৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনের সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজের প্রাইভেটকারে করে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার গাড়ির সামনে থেকে গুলি চালায়। গাড়িটি থেমে গেলে তারা শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে, এতে তার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে এই হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শরিফ ওই পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য একজন নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
এছাড়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির ছয়টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার পর থেকেই হাবিবপন্থীদের সঙ্গে শরিফের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এই রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র: রাইজিংবিডি
Leave a Reply