চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এ বিষয়ে গত ১১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। ফলে কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় ওই আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ভোটারদের হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি জোটের হাতে রয়েছে ২৪৭টি ভোট (সংরক্ষিত নারী আসনসহ)। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) হাতে একটি করে মোট তিনটি ভোট রয়েছে, যারা বিএনপির মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রয়েছে একটি ভোট এবং বাকি আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের প্রায় সবাই অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরাজয় নিশ্চিত জেনেও কেন জামায়াত জোট প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন ছিল এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। সেই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয় শতভাগ নিশ্চিত বলা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে বিএনপি জোটের মোট ভোট ২৪৭ (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকি ১২ ভোটের মধ্যে একটি করে ভোট রয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের মানুষকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানাতে চাই।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Leave a Reply