ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে: উত্তর কোরিয়ার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: ভোলার জেলেদের দুশ্চিন্তা ও সরকারি সহায়তার বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন ইসির সঙ্গে নেপাল নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অস্থিরতায় উত্তপ্ত ফ্রান্স: সমাধান খুঁজছে সরকার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে বাধ্য করার ঘটনায় টানা ৪৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকেও তৃপ্ত নন স্পেন কোচ ময়মনসিংহে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘ঝলমল’ সিনেমা হল বুয়েটে ২৪টি পদে জনবল নিয়োগ: বেতন সর্বোচ্চ ৩০,২৩০ টাকা কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দেবাশীষ দত্ত ছাড়াও তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন রয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়ার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকতায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল নাইন’-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পড়ুন>>মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: ইসরায়েল-আমিরাত জোটের জন্য কেন এটি বড় ধাক্কা?

পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন ও নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী আফসানা শারমিনের রক্তের কণিকা সংক্রান্ত সমস্যা, তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষের কথা বলায় জড়তা এবং শ্বশুর আকরাম হোসেনের বার্ধক্যজনিত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ সপরিবারে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে যান। সেখানে নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৬ দিন পর মঙ্গলবার তারা কলকাতায় ফিরে আসেন। দেশে রেখে যাওয়া সাত বছর বয়সী শিশুকন্যা মহিমার জন্য কেনাকাটা করতে তারা কলকাতায় একদিন বেশি অবস্থান করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়ায়।

 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মহিমার সঙ্গে ভিডিও কলে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন দেবাশীষ। সে সময় বাবা তাকে নতুন জামা ও চকোলেট দেখান এবং বুধবার দেশে ফেরার কথা জানান। কিন্তু সেই চকোলেট আর খেলনা নিয়ে ফেরা হলো না তাদের। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার বাড়িতে মহিমাকে ঘিরে তার সহপাঠী ও আত্মীয়রা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সে নির্বাক হয়ে দেয়ালে টাঙানো বাবা-মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে ছিল।

কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে শিখা ইন হোটেলের চার তলায় এয়ার কন্ডিশনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধোঁয়ায় পুরো হোটেল আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। হোটেল থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৯ জন অচেতন অবস্থায় ছিলেন, যাদের পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। দেবাশীষের ভায়রা মিটু চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালুরুতে তাদের সঙ্গে গেলেও, ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি মঙ্গলবারই দেশে ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে যান।

পড়ুন>>ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

নিহত দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, তিনি নিজে হার্টের রোগী এবং তার স্ত্রীও অসুস্থ। দেবাশীষই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। প্রতি মাসে তাদের ওষুধ ও বাসা ভাড়ার খরচ দেবাশীষই বহন করত। এখন তাদের ভবিষ্যৎ ও নাতনি মহিমার পড়ালেখার খরচ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এদিকে, বুধবার নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৯ বছর আগে ভিন্ন ধর্মের হলেও ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন দেবাশীষ ও আফসানা। তাদের সেই সুখের সংসারে দুই সন্তানকে ঘিরে ছিল হাজারো স্বপ্ন, যা কলকাতার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল। মা//জ//ন

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দেবাশীষ দত্ত ছাড়াও তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন রয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়ার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকতায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল নাইন’-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পড়ুন>>মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: ইসরায়েল-আমিরাত জোটের জন্য কেন এটি বড় ধাক্কা?

পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন ও নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী আফসানা শারমিনের রক্তের কণিকা সংক্রান্ত সমস্যা, তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষের কথা বলায় জড়তা এবং শ্বশুর আকরাম হোসেনের বার্ধক্যজনিত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ সপরিবারে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে যান। সেখানে নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৬ দিন পর মঙ্গলবার তারা কলকাতায় ফিরে আসেন। দেশে রেখে যাওয়া সাত বছর বয়সী শিশুকন্যা মহিমার জন্য কেনাকাটা করতে তারা কলকাতায় একদিন বেশি অবস্থান করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়ায়।

 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মহিমার সঙ্গে ভিডিও কলে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন দেবাশীষ। সে সময় বাবা তাকে নতুন জামা ও চকোলেট দেখান এবং বুধবার দেশে ফেরার কথা জানান। কিন্তু সেই চকোলেট আর খেলনা নিয়ে ফেরা হলো না তাদের। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার বাড়িতে মহিমাকে ঘিরে তার সহপাঠী ও আত্মীয়রা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সে নির্বাক হয়ে দেয়ালে টাঙানো বাবা-মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে ছিল।

কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে শিখা ইন হোটেলের চার তলায় এয়ার কন্ডিশনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধোঁয়ায় পুরো হোটেল আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। হোটেল থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৯ জন অচেতন অবস্থায় ছিলেন, যাদের পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। দেবাশীষের ভায়রা মিটু চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালুরুতে তাদের সঙ্গে গেলেও, ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি মঙ্গলবারই দেশে ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে যান।

পড়ুন>>ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

নিহত দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, তিনি নিজে হার্টের রোগী এবং তার স্ত্রীও অসুস্থ। দেবাশীষই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। প্রতি মাসে তাদের ওষুধ ও বাসা ভাড়ার খরচ দেবাশীষই বহন করত। এখন তাদের ভবিষ্যৎ ও নাতনি মহিমার পড়ালেখার খরচ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এদিকে, বুধবার নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৯ বছর আগে ভিন্ন ধর্মের হলেও ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন দেবাশীষ ও আফসানা। তাদের সেই সুখের সংসারে দুই সন্তানকে ঘিরে ছিল হাজারো স্বপ্ন, যা কলকাতার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল। মা//জ//ন

 

 

Facebook Comments Box