ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাদুঘরে ঠাঁই পাচ্ছে লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক আর্মব্যান্ড শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি ও অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতি রাবিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: হল প্রভোস্ট প্রত্যাহার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের র‍্যালিতে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানার প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার কক্সবাজার বিমানবন্দর: রানওয়ে ও টার্মিনাল প্রস্তুত শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি আদর্শ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদনের নিয়ম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিধবা সুফিয়া

৩৫ বছর পর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি কি?

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

৩৫ বছর পর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি কি?

প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে।

 

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যা ছিল সংসদীয় ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও উত্তেজনাকর ঘটনা।

 

পড়ুন>>অনুশীলনে তানজিদের ঘাড়ে অস্বস্তি, আঙুলে চোট পেলেন মুশফিকুর রহিম

 

 

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৩০ জন সদস্যের মধ্যে ২৬৪ জন ভোট প্রদান করেন এবং ৬৬ জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

পড়ুন>>এক-চীন নীতি নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের অবস্থানে বেইজিংয়ের সন্তোষ

নির্বাচনের আয়োজনে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্পিকারের নির্ধারিত বড় চেয়ারের পরিবর্তে সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য একটি ছোট চেয়ার রাখা হয়েছিল। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে একাধিক বুথ স্থাপন করে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই সংসদে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন>>ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী প্রেরণ

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও সাজেদা চৌধুরীসহ বিরোধী দলের সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণের বিধানের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা একে ‘শেইম, শেইম’ বলে স্লোগান দিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান থাকায় ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর দীর্ঘ সময় একক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি, তবে এবারের পরিস্থিতি আবারও সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। যু//র

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৫ বছর পর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি কি?

আপডেট সময় : ০১:২০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

৩৫ বছর পর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি কি?

প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে।

 

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যা ছিল সংসদীয় ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও উত্তেজনাকর ঘটনা।

 

পড়ুন>>অনুশীলনে তানজিদের ঘাড়ে অস্বস্তি, আঙুলে চোট পেলেন মুশফিকুর রহিম

 

 

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৩০ জন সদস্যের মধ্যে ২৬৪ জন ভোট প্রদান করেন এবং ৬৬ জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

পড়ুন>>এক-চীন নীতি নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের অবস্থানে বেইজিংয়ের সন্তোষ

নির্বাচনের আয়োজনে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্পিকারের নির্ধারিত বড় চেয়ারের পরিবর্তে সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য একটি ছোট চেয়ার রাখা হয়েছিল। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে একাধিক বুথ স্থাপন করে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই সংসদে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন>>ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী প্রেরণ

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও সাজেদা চৌধুরীসহ বিরোধী দলের সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণের বিধানের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা একে ‘শেইম, শেইম’ বলে স্লোগান দিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান থাকায় ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর দীর্ঘ সময় একক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি, তবে এবারের পরিস্থিতি আবারও সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। যু//র

 

 

 

Facebook Comments Box