হাসপাতাল গেইটে রাতে ঔষধ উদ্ধার: হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ঔষধ ব‍্যবসায়ী : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
হাসপাতাল গেইটে রাতে ঔষধ উদ্ধার: হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ঔষধ ব‍্যবসায়ী : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়দিনে বক্স অফিসে মুখোমুখি শাহরুখের ‘কিং’ ও নাগার্জুনার ‘কিং১০০ ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কমলেও চিনি, তেল ও ডিমের চড়া দামে অস্বস্তি ভূরুঙ্গামারীতে বিজিবি কর্তৃক সার আটক মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ, নতুন প্রক্রিয়ায় খুলছে শ্রমবাজার বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন সারজিস আলম শহীদদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট: তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পিসিবির হুমকি, কিছুই জানতেন না সরফরাজ গুম-মৃত্যুর ঘটনা ও জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৪ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান

হাসপাতাল গেইটে রাতে ঔষধ উদ্ধার: হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ঔষধ ব‍্যবসায়ী

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৪
হাসপাতাল গেইটে রাতে ঔষধ উদ্ধার: হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ঔষধ ব‍্যবসায়ী

হাসপাতাল গেইটে রাতে ঔষধ উদ্ধার: হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ঔষধ ব‍্যবসায়ী

প্রাণি সম্পদ হাসপাতালের বাহিরে সরকারি ঔষধ : রাতে ঔষধ ব্যবসায়ী প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ হাসপাতালের গেইটে পরিত্যক্ত অবস্থা সরকারি ঔষধ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এনিয়ে জনমনে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ৷ পরে স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজিতে হাসপাতালের কর্মচারী চয়ন ও মিজানুর রহমান এসে কার্যালয়ের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান হাসপাতাল সংলগ্ন ভেটেরিনারি মেডিসিন কর্ণারের স্বত্বাধিকারী বিশ্বনাথ রায় (৬০) কে প্রশাসনিক কার্যালয়ের ভেতরে।

পড়ুন>>বাঁধের জলকপাট একা একাই খুলে গেছে- ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

অফিস তালাবদ্ধতা নিয়ে এলাকাবাসীর জনরোষের সামনে বিশ্বনাথ রায় বলেন অফিসে অভিজ্ঞ লোক না থাকায় জেলা কর্মকর্তা ডা: মো: রফিকুল ইসলাম তাকে চাবি দিয়েছিলেন অফিসের কাজ করার জন্য। এনিয়ে নানান গুঞ্জনের একপর্যায়ে জেলা কর্মকর্তা ডা: মো: রফিকুল ইসলামকে ফোন দিয়ে এলাকাসীর কাছথেকে অবমুক্ত হন বিশ্বনাথ রায়৷

গত রবিবার ১৮ আগষ্ট ২০২৪ইং রাত সোয়া ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রাণি সম্পদ হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি ঔষধ বিক্রি সহ নানান অনিয়ম ও দূর্নীতি সংঘটিত হয়ে আসছে। প্রায়ই ভুক্তভোগীরা স্থানীয় পরিচিত জনদের জানায় গ্রাম থেকে আসা কৃষকরা হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন নির্দিষ্ট ফার্মেসীতে যাওয়ার জন্য। এতে করে ডাক্তারের রমরমা কমিশন বাণিজ্য হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে খামারিদের জন্য সরকারি ভাবে ট্রেনিংয়ের সুবিধা দিলেও ৩দিনের ট্রেনিং কার্যক্রম ১ দিনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে করে দুই দিনের ট্রেনিংয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

আরও জানান, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে সরকার বিভিন্ন প্রনোদনা দিলে তা সুসম বন্টন হচ্ছেনা। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার কথাও রয়েছে। সরকারি ভাবে ভর্তুকিকৃত বিভিন্ন ভেকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন গরীব কৃষক ও খামারিগণ।

এ সকল ভেকসিন উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে খামারে খামারে ও ভেটেরিনারি ফার্মেসী। সরকারি ভাবে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন  এলাকাগুলোতে ভেকসিন কর্যক্রম করার কথা থাকলেও ভেকসিন কার্যক্রম হচ্ছেনা। জনসাধারণের প্রশ্ন তাহলে এসকল ভেকসিন কোথায় যাচ্ছে৷ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জনূর গণমাধ্যমকে বলেছেন, এশার নামজে মসজিদে যাওয়ার পথে কিছু মানুষের জটলা দেখে বিষয়টি জানার জন্য সামনে এগিয়ে দেখতে পাই কিছু সরকারি ঔষধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তার পাশে লোহার একটি পিঞ্জিরা বাহিরে পড়ে রয়েছে এবং দোতলার সিড়িঁর উপরে উঠতে গেলেও দেখি এখানেও কিছু ঔষধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন- জেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে কিছু লোকজনকে জড় হওয়া দেখি এবং তার আমাকে ডাকলে আমি কাছেগিয়ে দেখতে পাই হাসপাতালের সরকারি ঔষধ কার্টুন করা অবস্থায় বাহিরে পড়া এবং হাসপাতালে তালাবদ্ধ৷

বিষয়টি দেখে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ডাক দিলাম কেউ নেই৷ পরবর্তীতে প্রাণি হাসপাতালের মিজানুর সাহেবকে খুঁজে বের করার পর তিনি গেইটের তালা খুললে হাসপাতাল বাহিরে ও ভেতরে ঔষধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে দেখি।  দ্বিতীয় তলায় উঠলে দেখতে পাই ফার্মেসীর বাবু তালাবদ্ধ অবস্থায় গেইটে আটক রয়েছে। তখন মিজান সাহেবকে বাবুর কথা জিজ্ঞেস করলেন  তিনি সবার সামনে বলেন আমারা তালাদিয়ে অফিস বন্ধ করে বাহিরে চলে যাই৷ মিজান সাহেব বাবুকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কখন আসলেন তিনি জানান সন্ধ্যার পরপর।

পড়ুন>>বিরলের দুই প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৩ শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে ছাত্রজনতার আন্দোলন

তিনি আরো বলেন সরকারি সম্পদ কেন রাতে বাহিরে থাকবে এটা কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবেন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হউক। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ রায় বলেন- জেলা কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি হাসপাতালে প্রশাসনিক কাজ করতেই এসেছেন।

তবে বাহিরে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঔষধের ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আরো বলেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর চাকুরি করেছেন।  তিনি অবসরে গিয়েছেন ৩ বছর হয়। আবসরে যাওয়ার পর তিনি হাসপাতাল সংলগ্ন ভেটেরিনারি মেডিসিন কর্ণার নামে প্রাণীজ ঔষধের দোকান খুলেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা: মো: রফিকুল ইসলাম বলেন – বিশ্বনাথ রায় আমাদের অফিসে পূর্বে কর্মরত ছিলেন। তিনি আমার অনুমতিতেই তিনি কার্যালয়ের ভেতরে রাতে ডুকেছেন প্রশাসনিক কিছু কাজ করার জন্য।

আমার যোগদানের পূর্বেই জেলার ঔষধ বন্টন শেষ হয়েছিলো৷ কিন্তু কি করে হাসপাতালে বাহিরে ঔষধ গিয়েছে সে বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি করেছি এবং ৭ দিনের মধ্যে তা খুঁজে বের করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!