ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের নিরাপত্তায় যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের

চাকুরী বাঁচাতে মগডালে প্রধান শিক্ষক

রাঙামাটি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৪৬০২০ বার পড়া হয়েছে

বাঘাইছড়ির পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

চাকুরী বাঁচাতে মগডালে প্রধান শিক্ষক

 

সরকারের নতুন নির্দেশনায় অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে বসে হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে হয়েছে তাকে। এ নিয়ে প্রথম দিনেই বিপাকে শিক্ষকরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়। প্রথম দিনেই এই নির্দেশনার বাস্তব চিত্র সামনে আসে সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ির পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

পড়ুন>> শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতায় ভূরুঙ্গামারীতে বিতর্ক উৎসব

 

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তার স্কুলটি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। সকাল ৯টার মধ্যে হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি প্রথমে স্কুলের ছাদে ওঠেন। কিন্তু সেখানে কোনো নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে সামান্য নেটওয়ার্ক পেয়ে হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

 

প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে আমার পরিবারের চারটি পেট কীভাবে চলবে?”

 

 

তিনি আরও জানান, নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে ছবি পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে ধমকও শুনতে হয়েছে তাকে।

 

পড়ুন>> গলাচিপায় স্কুল ফিডিংয়ে তেঁতো স্বাদের ডিম

 

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের উপস্থিতি অনলাইনে পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখান থেকে অনলাইনে হাজিরা এসেছে। অন্য অনেক বিদ্যালয় মোবাইল বার্তার মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়েছে।

 

 

 

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। তবে পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন>>তাহিরপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক

 

তার ভাষায়, “রাঙামাটির অনেক এলাকায় এখনও মোবাইল নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা, বিদ্যুতও পৌঁছেনি। সমতলের মতো সহজে পাহাড়ে অনলাইন হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।”

 

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেখানে নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নেটওয়ার্কবিহীন বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

 

 

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রাঙামাটিতে মোট ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নতুন পদ্ধতির প্রথম দিনে ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের হাজিরা পাওয়া গেলেও ১৭০টি বিদ্যালয় মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় কোনো উপস্থিতি তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও >> শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতায় ভূরুঙ্গামারীতে বিতর্ক উৎসব

 

একটি হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে গাছের ডালে উঠতে হওয়া শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; বরং এটি দেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। অনলাইনভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হলে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর বৈষম্য দূর করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাকুরী বাঁচাতে মগডালে প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

 

 

 

চাকুরী বাঁচাতে মগডালে প্রধান শিক্ষক

 

সরকারের নতুন নির্দেশনায় অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে বসে হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে হয়েছে তাকে। এ নিয়ে প্রথম দিনেই বিপাকে শিক্ষকরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতি পাঠানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়। প্রথম দিনেই এই নির্দেশনার বাস্তব চিত্র সামনে আসে সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ির পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

পড়ুন>> শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতায় ভূরুঙ্গামারীতে বিতর্ক উৎসব

 

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তার স্কুলটি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। সকাল ৯টার মধ্যে হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি প্রথমে স্কুলের ছাদে ওঠেন। কিন্তু সেখানে কোনো নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে সামান্য নেটওয়ার্ক পেয়ে হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

 

প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে আমার পরিবারের চারটি পেট কীভাবে চলবে?”

 

 

তিনি আরও জানান, নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে ছবি পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে ধমকও শুনতে হয়েছে তাকে।

 

পড়ুন>> গলাচিপায় স্কুল ফিডিংয়ে তেঁতো স্বাদের ডিম

 

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের উপস্থিতি অনলাইনে পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখান থেকে অনলাইনে হাজিরা এসেছে। অন্য অনেক বিদ্যালয় মোবাইল বার্তার মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়েছে।

 

 

 

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। তবে পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন>>তাহিরপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক

 

তার ভাষায়, “রাঙামাটির অনেক এলাকায় এখনও মোবাইল নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা, বিদ্যুতও পৌঁছেনি। সমতলের মতো সহজে পাহাড়ে অনলাইন হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।”

 

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেখানে নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নেটওয়ার্কবিহীন বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

 

 

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রাঙামাটিতে মোট ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নতুন পদ্ধতির প্রথম দিনে ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের হাজিরা পাওয়া গেলেও ১৭০টি বিদ্যালয় মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় কোনো উপস্থিতি তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও >> শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতায় ভূরুঙ্গামারীতে বিতর্ক উৎসব

 

একটি হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে গাছের ডালে উঠতে হওয়া শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; বরং এটি দেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। অনলাইনভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হলে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর বৈষম্য দূর করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box