ভূরুঙ্গামারীতে গম বীজের তীব্র সংকটে চাষী : উচ্চ মূল‍্যেও পাচ্ছেন না বীজ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ভূরুঙ্গামারীতে গম বীজের তীব্র সংকটে চাষী : উচ্চ মূল‍্যেও পাচ্ছেন না বীজ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৩১ জুলাই ২০২৬; আজকের রাশিফল:কেমন কাটবে আপনার আজকের দিনটি সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, আজও দেশজুড়ে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা আজ শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম‍্যমান আদালতে মাদকসেবী যুবককে ১মাসের কারাদন্ড দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ছাগল বিতরণ সুন্দরগঞ্জে এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ডিআরআর চ্যাম্পিয়নদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ  তাড়াশে দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র ১০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ ভূরুঙ্গামারীতে আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলায় কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার সাময়িক বরখাস্ত জাল নোট প্রতিরোধে ভূরুঙ্গামারীতে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভূরুঙ্গামারীতে গম বীজের তীব্র সংকটে চাষী : উচ্চ মূল‍্যেও পাচ্ছেন না বীজ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২
ভূরুঙ্গামারীতে গম বীজের তীব্র সংকটে চাষী : উচ্চ মূল‍্যেও পাচ্ছেন না বীজ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গম বীজের তীব্র সংকটে গম চাষীরা। উচ্চ মূল‍্যেও মিলছেনা গম বীজ। গম চাষের ভরা মৌসুম।গম বীজের তীব্র সংকটে জমি তৈরি হলেও গম রোপণ করতে পারছেনা। বাড়তি দামেও সংগ্রহ করতে পারছেনা গমের বীজ।

চাষিরা ডিলারদের কাছে দিনের পর দিন ঘুরেও বীজ পাচ্ছেন না। জমি প্রস্তুত থাকলেও বীজ সংগ্রহ করতে না পেরে সময়মত জমিতে গম বপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার কৃষকরা।

অপরদিকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম এবং চলতি মৌসুমে গম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে বীজের সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

“কৃষি অফিস প্রণোদনার আওতায় ৩৬ মেট্রিক টন গম বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে। সরবরাহ করা হয়েছে মোট চাহিদার মাত্র ৪৫% শতাংশ “

সাধারণত প্রতি হেক্টর জমিতে ১২০ কেজি বীজ ব্যবহার করতে হয়। সেই অনুযায়ী ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে গম আবাদের জন্য ২৩০ মেট্রিক টন গমবীজ প্রয়োজন।

উপজেলায় বিএডিসির অনুমোদিত ১৭ জন বীজ পরিবেশক রয়েছেন। কৃষক পর্যায়ে বিক্রির জন্য তাঁদের ৩০ মেট্রিক টন গমবীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছ। আর উপজেলা কৃষি অফিস প্রণোদনার আওতায় ৩৬ মেট্রিক টন গম বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে। সরবরাহ করা হয়েছে মোট চাহিদার মাত্র ৪৫% শতাংশ ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) কর্তৃক প্রতি কেজি গম বীজের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৫১ টাকা। আর ডিলার পর্যায়ে ৭ টাকা লাভে ৫৮ টাকায় বিক্রির জন‍্য দাম নির্ধারণ করে বিএডিসি। কিন্তু সেই বীজ ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকা কেজিতেও মিলছেনা। চাষিরা দিনের পর দিন ঘুরেও গমবীজ সংগ্রহ করতে পারছেনা।

বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক কৃষক উপজেলা শহর‍ে এসে বীজ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে প্রতি বস্তা (২০ কেজি) গম বীজ ৮ শ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দাম দিয়ে কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক কৃষক।

বলদিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলেপ উদ্দিন জানান, এবার ৭ বিঘা জমিতে গম চাষের জন‍্য জমি তৈরি করেছি। ২২০০ টাকা দামে মাত্র এক বস্তা বীজ পেয়েছি। এতে চারভাগর একভাগ জমিও চাষ হবে না। বাকি বীজ সংগ্রহ করার জন‍্য এক সপ্তাহ থেকে ঘুরেও কোথাও বীজ পেলাম না। হয়তো অন‍্য কোন ফসল বুনতে হবে।

আলী হোসেন নামের অন্য একজন কৃষক জানান, গম চাষের জন‍্য ২ বিঘা জমি প্রস্তুত করেছি। কয়েক দিন থেকে দোকানে দোকানে ঘুরছি। কোথাও বীজ পাচ্ছি না। এক দোকানে এক বস্তা বীজ ২ হাজার ৫০০ টাকা দাম চেয়েছে। দাম বেশি মনে হওয়ায় অন‍্য দোকানে গেছি। ফিরে এসে দেখি ওই দোকানের বীজ শেষ হয়ে গেছে।

বীজ বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গম বীজের সংকট দেখা দিয়েছে। বিএডিসি যে পরিমাণ বীজ বরাদ্দ দিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন বহু কৃষক বীজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বীজ না পেলে এবার গম চাষের লক্ষ‍্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বিএডিসির তালিকাভুক্ত বীজ ডিলার মেসার্স ভাই ভাই সার ঘর এর স্বত্বাধিকারী আবুল হাসেম জানান, এবছর মাত্র ১ টন তথা ৫০ বস্তা বীজ বরাদ্দ পেয়েছিলাম। তা ১১৭০ টাকা দরে দুই সপ্তাহ আগেই বিক্রি শেষ হয়েছে। প্রতিদিন অনেক কৃষক বীজ কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

আরেক ডিলার মেসার্স সাহা এন্ড ব্রাদার্স এ গিয়ে জানা যায়, সেখানেও কোন গম বীজ নেই। উপজেলা সদরের অন্তত ৭টি দোকান ঘুরে কোথাও গম বীজ পাওয়া যায়নি।

“গত বছর প্রাকৃতির দূর্যোগ ও প্রচুর বৃষ্টির কারণে গমের আবাদ নষ্ট হয়ে যায়।কৃষক পর্যায়ে যে বীজ সংগৃহীত থাকে সেটা না থাকায় মূলত গম বীজের সংকট দেখা দিয়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক জানান, গত বছর প্রাকৃতির দূর্যোগ ও প্রচুর বৃষ্টির কারণে গমের আবাদ নষ্ট হয়ে যায়।

এতে কৃষক পর্যায়ে যে বীজ সংগৃহীত থাকে সেটা না থাকায় মূলত গম বীজের সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!