ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখা প্রথম দেশ আর্জেন্টিনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টস মোল’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচটি যখন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে পৌঁছায়, তখন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর আগে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশের কারণে তিনি প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন। যখন লিওনেল স্কালোনির দল ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে।

ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। এই হারের ম্যাচে আর্জেন্টিনা পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট রাখতে পারেনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলোয়াড় বহিষ্কার হওয়ার তালিকায় এনজো ফার্নান্দেজ অনুসরণ করলেন তার দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তিকে। তারা দুজনই ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন—বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার ঘটনা সেটাই ছিল একমাত্র। এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। তবে রোববারের (১৯ জুলাই) এই ঘটনার পর এককভাবে এই বাজে রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জন্য বেদনাময় ইতিহাসকে আরও প্রসারিত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এখন তাদের ঝুলিতে মোট চারটি রানার্সআপ ট্রফি যোগ হলো, যা বিশ্বমঞ্চে যৌথভাবে জার্মানির সঙ্গে সর্বোচ্চ ফাইনাল হারের রেকর্ড। আর্জেন্টিনা তিনটি শিরোপা (১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২) জয়ের পাশাপাশি এই হতাশার রেকর্ডটিরও ভাগিদার হলো।

এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার জেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখা প্রথম দেশ আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টস মোল’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচটি যখন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে পৌঁছায়, তখন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর আগে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশের কারণে তিনি প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন। যখন লিওনেল স্কালোনির দল ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে।

ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। এই হারের ম্যাচে আর্জেন্টিনা পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটিও শট রাখতে পারেনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলোয়াড় বহিষ্কার হওয়ার তালিকায় এনজো ফার্নান্দেজ অনুসরণ করলেন তার দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তিকে। তারা দুজনই ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন—বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার ঘটনা সেটাই ছিল একমাত্র। এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। তবে রোববারের (১৯ জুলাই) এই ঘটনার পর এককভাবে এই বাজে রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জন্য বেদনাময় ইতিহাসকে আরও প্রসারিত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এখন তাদের ঝুলিতে মোট চারটি রানার্সআপ ট্রফি যোগ হলো, যা বিশ্বমঞ্চে যৌথভাবে জার্মানির সঙ্গে সর্বোচ্চ ফাইনাল হারের রেকর্ড। আর্জেন্টিনা তিনটি শিরোপা (১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২) জয়ের পাশাপাশি এই হতাশার রেকর্ডটিরও ভাগিদার হলো।

এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার জেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখেন।

Facebook Comments Box