বাংলাদেশ পিপলস লীগকে আগামী তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এ নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে নিবন্ধন না পাওয়ায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ২ আগস্ট হাইকোর্ট ইসিকে দলটির বিষয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের জুনে দাখিল করা ইসির হলফনামায় দাবি করা হয়, দলটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ইসির মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দলটির দাখিলকৃত সাত জেলার মধ্যে মাত্র ৩টি এবং ৩১টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ১৮টি উপজেলা দপ্তরের কার্যকারিতা পাওয়া গেছে, যা নিবন্ধনের শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন তাদের আবেদন নাকচ করেছিল।
বুধবার আদালতের রায়ের পর দলের চেয়ারম্যান গরিব নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ পিপলস লীগ ১৯৭৬ সালে ডা. আলীম আল রাজীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১২ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জানানো হলে আদালত রি-ইনকোয়ারির নির্দেশ দেন। কিন্তু রি-ইনকোয়ারির পরেও অন্যায়ভাবে আমাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন অনেক দলকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হলেও তাদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
মামলার রিট আবেদনকারী ও দলের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন বলেন, ২০১২ সালে আবেদনের সময় আমাদের ৮৩টি উপজেলা এবং ১৮টি জেলায় দপ্তর ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ১০০ উপজেলা এবং ২১টি জেলা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, আমাদের ১০১টি উপজেলা এবং ২১টি জেলায় দপ্তর সম্পন্ন হওয়ার পরেও ইসি আমাদের নিবন্ধন দেয়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশেই এই অন্যায় করা হয়েছে এবং আমরা ২০ দলীয় জোটের শরিক হওয়ার কারণেই নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম বলে তিনি মন্তব্য করেন। অবশেষে হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
Leave a Reply