মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক ও অভিবাসন ইস্যু
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক ও অভিবাসন ইস্যু
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানতে পেরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভোটারদের মতামতে উঠে এসেছে যে কেবল দলীয় আনুগত্য নয়, বরং নিজ নিজ জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোই তাদের ভোটের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
মিশিগানের ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী ব্রিটানি হ্যামলিন পেশায় তথ্য বিশ্লেষক। পেশাগত কাজের পাশাপাশি তিনি তাঁর অসুস্থ দাদির দেখাশোনা করেন। স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধের দাম প্রতিনিয়ত বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হ্যামলিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে নিজের রায় দিয়েছেন। হ্যামলিনের ভাষ্য, আল-সাইয়েদ সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বজায় রাখা এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। পক্ষান্তরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কোনো কার্যকর নীতি গ্রহণ করবেন না বলে হ্যামলিন বিশ্বাস করেন।
পড়ুন>>বার্সেলোনার জয়যাত্রা: রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ধসে পড়ল অ্যাস্টন ভিলা
একই শহরের আরেক ভোটার ৩৪ বছর বয়সী নাতালিয়া টাউনসও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদকে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি গির্জায় গিয়ে ভোটারদের মন জয়ের বিশেষ চেষ্টা চালিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আল-সাইয়েদের সাবেক দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেনস, যিনি পরবর্তীতে রজার্সকে সমর্থন জানান। টাউনস মনে করেন, ভোটের সময় সাময়িকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের পাশে দাঁড়ানোর ভান করার চেয়ে নিয়মিত সাধারণ মানুষের পাশে থাকাটাই আসল বিষয়।
তবে আল-সাইয়েদের ঘোষিত নীতির সঙ্গে একেবারেই একমত হতে পারেননি ডেট্রয়েটের ৬৩ বছর বয়সী ভোটার পল স্টকিজ। তিনি স্পষ্টভাবেই রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে ভোট দিয়েছেন। স্টকিজের অভিমত, এল-সায়েদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবে রূপ দিতে গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। দিনশেষে সেই বিশাল ব্যয়ের বাড়তি বোঝা সাধারণ করদাতাদের ওপরই গিয়ে পড়বে।
পড়ুন>>ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
ইলিনয়ের শিকাগোর সরকারি স্কুলের শিক্ষক ২৯ বছর বয়সী রায়ান ব্রাউন ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের কারণে তাঁর শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিনিয়ত তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ব্রাউন জানান, তাঁর নিজের এক শিক্ষার্থীকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাড়ি ফেরার পথেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং যাতায়াতে সহায়তা চায়। তবে ব্রাউন নিজে কাকে ভোট দিয়েছেন, সেই গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি। তাঁদের কেউ কেউ প্রতিদিনের যাতায়াতে সহায়তা চেয়েছে।
অন্যদিকে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থেও অভিবাসন নীতি ভোটারদের আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। সেখানকার ৪০ বছর বয়সী বাসিন্দা মারিয়া সেরদা জানান, তাঁর অনেক পরিচিত সহকর্মীকে সরকারি সংস্থা ধরে নিয়ে গেছে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের জীবনে চরম চাপ তৈরি করছে।
পড়ুন>>রংপুরে আইজিপির উদ্যোগে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে সেরদা জানান, বিশেষ করে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সংস্থাটির বৈষম্যমূলক আচরণ উদ্বেগজনক। টেক্সাসে আলোচনায় অভিবাসন ও নিত্যপণ্যের দাম।
তবে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পক্ষেও সমর্থক রয়েছেন। টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের ৫৪ বছর বয়সী রাঁধুনি ভিক্টর গার্সিয়া দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মেনে চলাও অত্যন্ত জরুরি।
আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে চ্যালেঞ্জ করছেন ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেলটোলা। সিনেটে কোন দল তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, তা নির্ধারণে আলাস্কার এই ফল বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের মাঝে একই নামের দুজন প্রার্থী ব্যালটে থাকা নিয়ে কিছুটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
আরও পড়ুন>>গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: হামলায় আহত শ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি
আলাস্কায় কর্মরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ২৭ বছর বয়সী সদস্য জেক ওয়েসলি জানান, নির্বাচনী ব্যালটে বর্তমান সিনেটরের নামের পাশে পদে থাকার পরিচয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ ছিল না। তিনি সুলিভানকে পুনর্নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন কারণ তাঁর মতে বর্তমান পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
দক্ষিণ আলাস্কার কাসিলফ অঞ্চলের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী জুডি ফিশারও বর্তমান সিনেটরকেই ভোট দিয়েছেন। তবে একই নামের অপর এক প্রার্থী থাকায় ভোটের ফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন এবং সবাইকে খোঁজখবর নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোটারদের এসব খোলামেলা বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন জনগণের রায় কেবল কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর প্রতি অন্ধ আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়নি। বরং ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক দৈনন্দিন অবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ভার, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টিই এবার ব্যালট বাক্সে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























