ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের অনুমোদিত ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা সন্তান জন্মের তিন দিনেই সড়কে প্রাণ গেল মার, আইসিইউতে নবজাতক ভূরুঙ্গামারীতে বেতনের দাবিতে মাদ্রাসা সুপার অবরুদ্ধ নীলফামারীতে ডিবির অভিযানে ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার তাহিরপুর শাহ আরেফিন মাজার নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি প্রশাসন নীরব মাদকাসক্ত ছেলের মাকে প্রাণ নাশের হুমকি: প্রাণ ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা চকরিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু: শোকের ছায়া এলাকায় ম্যান সিটির শাস্তির খবরে হালান্ডকে নিয়ে বাড়ছে জল্পনা ইস্টার্ন ব্যাংকে ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ: আবেদন করবেন যেভাবে

হরমুজে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নয় দিনের ব্যবধানে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনার মধ্যে কয়েকটি জাহাজ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত সপ্তাহে দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রধান রুটগুলো জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। এমনকি শুক্রবারের এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, সপ্তাহের শুরুতে আকাশপথে পরিদর্শনের সময় সেখানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী জাহাজ তিনি দেখতে পাননি।

তবে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের হিসাবমতে, শুধু অক্টোবর মাসেই বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূলত তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুদ্ধপূর্ব সময় পর্যন্ত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দক্ষিণ রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, নিয়মিত হুমকি এবং হামলার আশঙ্কায় এই পথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নয় দিনের ব্যবধানে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনার মধ্যে কয়েকটি জাহাজ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত সপ্তাহে দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রধান রুটগুলো জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। এমনকি শুক্রবারের এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, সপ্তাহের শুরুতে আকাশপথে পরিদর্শনের সময় সেখানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী জাহাজ তিনি দেখতে পাননি।

তবে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের হিসাবমতে, শুধু অক্টোবর মাসেই বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূলত তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুদ্ধপূর্ব সময় পর্যন্ত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দক্ষিণ রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, নিয়মিত হুমকি এবং হামলার আশঙ্কায় এই পথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ও ঝুঁকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box