আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশাল অবৈধ অর্থ দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা: প্রস্তুত সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশাল অবৈধ অর্থ দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা: প্রস্তুত সরকার
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে থাকা বিশাল পরিমাণ অর্থসম্পদ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শেখ হাসিনা ভবিষ্যতেও সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাতে পারেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর মতো অবস্থায় না থাকলেও, তাদের অর্থের জোরে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সাম্প্রতিক পোশাকশিল্পের অস্থিরতার সঙ্গেও এসব কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নও আসতে পারে।
পড়ুন>>জামালপুরের মেলান্দহে কাঁঠালগাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রৌঢ়ের মৃত্যু
ডিসেম্বরে বড় কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বর আসুক, ডিসেম্বর শেষ হোক। এরপর এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কথা বলা যাবে।’ শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে তিনি যে আগের ভুল স্বীকার করবেন বা ক্ষমা চাইবেন, সেই বিষয়েও তিনি নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন।
জাহেদ উর রহমান ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পরের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময় পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে তিনি যা বলেছিলেন, সেই ইতিহাস মাথায় রেখে বিশ্বাস করি না যে তিনি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন।’ তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের অস্থিরতা প্রতিহত করার প্রস্তুতি রয়েছে।
পড়ুন>>চট্টগ্রামে জনাকীর্ণ স্থানে গুলি, এক বছরেও শনাক্ত হয়নি সেই শুটার
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তার প্রত্যাবর্তনের পথ সরকার বন্ধ করেনি, বরং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘উনি নিজে আসুন অথবা আমরা উনাকে নিয়ে আসি, লক্ষ্য তো অভিন্ন। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে আগাম পরিকল্পনা নেই।
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধীদের ওপর যেভাবে ঢালাও অভিযোগ আনা হতো, বর্তমান সরকারের বক্তব্যকে সেভাবে বিচার করা ঠিক হবে না। গণতান্ত্রিক সরকার ও স্বৈরাচারী শাসকের আচরণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। যদি সরকারের দেওয়া কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তার দায়ভার সরকারই গ্রহণ করবে। সরকারের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমনভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে যেন জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। শেখ হাসিনার আমলের মতো দমন-পীড়নের পথে হাঁটতে চায় না বর্তমান সরকার।
আরও পড়ুন>>কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি ক্ষমতা থাকলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ না করা এবং আনুপাতিক নীতি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাথায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুতই পোশাকশিল্পের এই অস্থিতিশীলতা নিরসন হবে। প্রকৃত শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যখন সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে, তখন তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এতে করে সুযোগসন্ধানী কোনো মহল বা গোষ্ঠী আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা চালানোর সুযোগ পাবে না। তখন অন্য কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো কঠিন হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















