পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১০:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশেষ করে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি খাত সচল রাখার লক্ষ্যে শিল্প কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রম মন্ত্রণালয় ও মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় প্রক্রিয়াটিতে সময় লেগেছে। তবে গতকাল রাতে শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়ার পর আজ সকালেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এখন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও মজুরি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আলোচনার পথ সবসময় খোলা রয়েছে। ফলে এ নিয়ে কোনো ধরনের সহিংস আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। গত কয়েক দিনে আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও কারখানায় আগুনের মতো নাশকতামূলক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সহিংসতায় উসকানির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি কুচক্রী মহল নিরীহ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা এবং পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারখানা বন্ধ থাকলে তা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়। মালিক ও শ্রমিকদের সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হবে যাতে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।
সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই শিল্প বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সরকার এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



















