সংশয় আর কৌতূহল চাকরিপ্রার্থীদের: ৫২তম বিসিএসও কি বিশেষ হতে যাচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে বড় ধরনের জনবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পৃথক একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের আলোচনা থেকে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের একটি উদ্যোগের খবর সামনে আসার পরই সাধারণ চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া লাখ লাখ প্রার্থীর মধ্যে তীব্র সংশয়, উদ্বেগ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ৫১তম বিসিএসে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক।
বিশেষ বিসিএস আয়োজনের চিন্তাভাবনা ও নিয়োগ কৌশল
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, নতুন কর্মকর্তাদের ক্যাডারভুক্ত করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়ার তাগিদ অনুভব করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যেই বিশেষ বিসিএসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিতদের ক্ষেত্রে
- মৌলিক বা বনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়সীমা কিছুটা সংকুচিত করে দ্রুততম সময়ে মাঠপর্যায়ে পদায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- সার্বিক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কঠোর গোপনীয়তা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা যাচাই-বাছাইয়ের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অবশ্য পুরো আলোচনাটি এখনও স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি।
পিএসসির অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র
সরকারের নীতিগত পর্যায়ে গুঞ্জন থাকলেও সরকারি কর্ম কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, বিষয়টিতে তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাননি। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে পিএসসির কর্মকর্তা ও মুখপাত্রের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো
- জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, ৫২তম বিসিএসকে বিশেষ বিসিএসে রূপান্তরের বিষয়ে পিএসসির অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি।
- পিএসসি এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে ৪০০ কিংবা ৫০০ জন এএসপি পদের বিপরীতে কোনো চাহিদাপত্র অথবা লিখিত প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জন করেনি।
- কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত চাহিদাপত্র পেলেই কেবল সেটি পিএসসির নিয়মিত বোর্ড সভায় উপস্থাপনের সুযোগ থাকে।
- সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কমিশন পূর্বনির্ধারিত সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির খসড়া সূচি অনুসারেই পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তুতি পরিচালনা করবে।
সাধারণ ক্যাডারপ্রার্থীদের আশঙ্কা ও সার্বিক বিসিএস পরিস্থিতি
বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে সাধারণ ৫২তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। তবে নতুন করে বিশেষ বিসিএসের তথ্য আসায় বিসিএস প্রত্যাশীদের নিয়মিত চাকরির সুযোগ ঝুলন্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের পেছনে কিছু যুক্তিসংগত কারণ ও পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট রয়েছে
- এর আগে ৫১তম বিসিএস সাধারণ বিসিএস হিসেবে আসার কথা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে তা চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএসে রূপান্তরিত করা হয়।
- উক্ত ৫১তম বিশেষ বিসিএসে ৫ হাজার পদের বিপরীতে মোট ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক আবেদন করেছেন, যার মধ্যে ৪ হাজার ৭০০টি সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি ডেন্টাল সার্জন পদ রয়েছে।
- পরপর দুটি বিসিএস যদি বিশেষ নিয়মে আয়োজিত হয়, তবে সাধারণ ক্যাডারে যোগ দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের অপেক্ষার কাল দীর্ঘতর হবে।
- বিশেষ বিসিএসে বড় ধরনের লিখিত পরীক্ষা না থাকায় কেবল প্রিলিমিনারি ও ভাইভার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে জনবল নেওয়া সম্ভব হলেও সাধারণ বিসিএসের রোডম্যাপ এতে মারাত্মক বিঘ্নিত হয়।
- পিএসসি ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তার রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের ভেতর ফলাফল প্রকাশের সময় ধার্য ছিল। ফলে ৫২তম প্রক্রিয়া ধীরগতির হলে সেশনজটের শঙ্কা আরও বাড়বে।
চূড়ান্ত বিসিএস সাধারণ না বিশেষ রূপ ধারণ করবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো শেষ চাহিদাপত্রের ওপর।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























