গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: হামলায় আহত শ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত এক পোশাকশ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০, ছুটি ৬০ কারখানায়। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ৫০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা।
নিহত তৌফিকের নাম তৌফিক শেখ (২১)।
তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের তবিবুর রহমান তবি খানের ছেলে। তৌফিক প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় থেকে স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন, কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ করার জন্য কিছু বহিরাগত সেখানে চাপ সৃষ্টি করলে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতেই ওই শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় গতকাল রাতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় পরিস্থিতি বিবেচনায় এক থেকে তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কটন ক্লাব (বিডি) লিমিটেড ও কটন ক্লাউড (বিডি) লিমিটেড যৌথ নোটিশে জানিয়েছে, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ও সার্বিক নিরাপত্তাঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাদের কারখানা বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা পৃথক নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা এলাকার লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। কারখানাটির মানবসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সব শিফট নিয়মিত চালু হবে। লিজ ফ্যাশন কারখানার কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ছুটির পর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রমিকেরা টানা তিন দিন অবকাশ পাবেন, যা পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে সব শিফট যথারীতি চালু হবে।
পাশাপাশি ভোগড়া এলাকার প্যানোরোমা অ্যাপারেলস লিমিটেড, কাশিমপুরের মিতালী ক্লাব ও জকি গার্মেন্টস তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, মনটেক্স ও ডিবিএল গ্রুপ দুই দিনের ছুটি দিয়েছে। এছাড়াও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এপেক্স হোল্ডিং, ইকোটেক্স, কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট, সাদমা ফ্যাশন, হাইড্রোক্সাইড ও ইন্টারস্টফসহ অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, তারা বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিজিএমইএ থেকে কারখানা খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। শ্রমিকদের ধাওয়ায় রাস্তা থেকে থানায় পুলিশ, পরে সেখানেও ঘেরাওয়ের চেষ্টা।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























