ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে ৯ কলেজে পাসের খাতা শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

এইচএসসিতে ইংরেজিতে ভরাডুবির নেপথ্যে প্রাথমিক থেকেই দুর্বল ভিত্তি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

কুড়িগ্রামে ৯ কলেজে পাসের খাতা শূন্য

 

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নয়টি প্রতিষ্ঠান কুড়িগ্রাম জেলার। জেলার সার্বিক ফলাফলও হতাশাজনক। এ বছর জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এইচএসসিতে জেলায় পাসের হার ৪০.৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩৬ জন।

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেননি। নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মডেল কলেজের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পড়ুন>>কাতারে ৩৩ হাজার প্লটে আধুনিক অবকাঠামোর মেগা পরিকল্পনা

এ ছাড়া একই উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন, নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পেয়ারা ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন এবং চিলাখানা মডেল কলেজের চারজন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

অন্যদিকে, উলিপুর উপজেলার হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন, চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন এবং রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি।

জেলা-পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর কুড়িগ্রাম থেকে মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৬ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

পড়ুন>>আইনি লড়াই ও এআই আতঙ্ক পেরিয়ে অভিনয়ে তানিয়া

ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো খারাপ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ, পাঠদানের মান যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন>>চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাসের হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

বিশেষ করে যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ নিয়ে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ। জেলার নয়টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা এবং সার্বিক পাসের হার কম হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে ৯ কলেজে পাসের খাতা শূন্য

আপডেট সময় : ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

 

 

কুড়িগ্রামে ৯ কলেজে পাসের খাতা শূন্য

 

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নয়টি প্রতিষ্ঠান কুড়িগ্রাম জেলার। জেলার সার্বিক ফলাফলও হতাশাজনক। এ বছর জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এইচএসসিতে জেলায় পাসের হার ৪০.৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩৬ জন।

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেননি। নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মডেল কলেজের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পড়ুন>>কাতারে ৩৩ হাজার প্লটে আধুনিক অবকাঠামোর মেগা পরিকল্পনা

এ ছাড়া একই উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন, নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পেয়ারা ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন এবং চিলাখানা মডেল কলেজের চারজন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

অন্যদিকে, উলিপুর উপজেলার হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন, চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন এবং রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি।

জেলা-পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর কুড়িগ্রাম থেকে মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৬ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

পড়ুন>>আইনি লড়াই ও এআই আতঙ্ক পেরিয়ে অভিনয়ে তানিয়া

ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো খারাপ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ, পাঠদানের মান যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন>>চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি পাসের হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

বিশেষ করে যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ নিয়ে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ। জেলার নয়টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা এবং সার্বিক পাসের হার কম হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

 

 

Facebook Comments Box