ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার: প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে জীবনের পুরোনো ছবি নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে জোট গঠনের পথে ইসরাইলি বিরোধী নেতারা শ্রমিক আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে, এর দায়ভার সরকারের: নাহিদ ইসলাম কাউনিয়ায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ পেকুয়ায় অটোরিকশার সংঘর্ষে পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশাল অবৈধ অর্থ দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা: প্রস্তুত সরকার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরের মেলান্দহে কাঁঠালগাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রৌঢ়ের মৃত্যু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে জোট গঠনের পথে ইসরাইলি বিরোধী নেতারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে দেশটির চারটি প্রধান বিরোধী দল জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে একমত হয়েছে। গত মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় আয়োজিত এক বৈঠকে বিরোধী নেতারা দ্রুত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন পার্লামেন্ট বা নেসেটের শপথের আগে সংসদীয় কৌশলগুলো সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের কোনো কার্যকর উপায় এখনো খুঁজে পাননি তারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্রুত জোট আলোচনা শুরু এবং আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেটের (ইসরাইলের পার্লামেন্ট) শপথের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধী চারটি ইহুদি দল সম্মিলিতভাবে ৪৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর জোটের ৫৩টি আসনের তুলনায় কম। সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে তাদের অন্তত দুটি আরব দলের সমর্থন প্রয়োজন, যারা নির্বাচনে ১৯টি আসন জিতেছে। কিন্তু ইহুদি বিরোধী দলগুলোর বেশিরভাগই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে অনাগ্রহী হওয়ায় নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে চারটি ইহুদি বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৮, যেখানে নেতানিয়াহুর জোটের রয়েছে ৫৩টি আসন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান। বৈঠকে গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূল নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক শক্তি ও শাসনের অবসান ঘটানো। বিবৃতিতে নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে ৭ অক্টোবরের পরিস্থিতির পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নেসেটের নতুন অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে লিকুদ দলের আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি করা সম্ভব হলে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা বিভিন্ন আইন ও তদন্তের পথ সহজ হবে। বিশেষ করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ওহানার পরিবর্তে লাপিদকে স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সোমবার নেওয়া হবে।

বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ হিসেবে গাদি আইজেনকটকে নাম প্রস্তাব করার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে আলোচনার জন্য দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নেতানিয়াহু ও তার দলের প্রচারণাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’।

নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার পেছনে কাতার বা বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে লিকুদ পার্টি অভিযোগ করলেও, এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন তদারকিতে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার লিকুদের দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন।

বি’ইয়াচাদ নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দ্রুত ‘জাতীয় পুনর্গঠনমূলক জায়নবাদী সরকার’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে সামরিক সেবায় নিয়োজিতদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করা জরুরি। ইয়ার লাপিদও সরকারকে উদ্ধারের তাড়াহুড়োর বিষয়টি সামনে এনে নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোকে সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন। নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরানো প্রয়োজন।

জোট গঠনের আগে ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমেদ তিবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের পর এই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর পাওয়া গেল। গোলানের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর লক্ষ্য অর্জনে সমন্বয় এবং আরব জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তারা একমত হয়েছেন। গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে কথা বললেও, বিরোধী জোটের বাকি নেতারা এখনো তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন।

লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন। তবে কীভাবে এমন সরকার গঠন করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি লিবারম্যান।

যদিও তিনি হারেদি বা অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিয়েছেন। তবে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে হারেদি দলগুলোর সরকারে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগের মতো দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেননি তিনি।

এদিকে, লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে যে, বিরোধীরা হামাস ও হিজবুল্লাহর সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল একটি বিপজ্জনক সরকার গঠনের পায়তারা করছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এমন সরকার অকার্যকর হবে বলে লিকুদের দাবি। একই সঙ্গে, ২০২৩ সালের ব্যর্থতার কারণে নেতানিয়াহুর ওপর গভীর অনাস্থা জানিয়ে বিরোধী নেতারা তার ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে জোট গঠনের পথে ইসরাইলি বিরোধী নেতারা

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে দেশটির চারটি প্রধান বিরোধী দল জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে একমত হয়েছে। গত মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় আয়োজিত এক বৈঠকে বিরোধী নেতারা দ্রুত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন পার্লামেন্ট বা নেসেটের শপথের আগে সংসদীয় কৌশলগুলো সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের কোনো কার্যকর উপায় এখনো খুঁজে পাননি তারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্রুত জোট আলোচনা শুরু এবং আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেটের (ইসরাইলের পার্লামেন্ট) শপথের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধী চারটি ইহুদি দল সম্মিলিতভাবে ৪৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর জোটের ৫৩টি আসনের তুলনায় কম। সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে তাদের অন্তত দুটি আরব দলের সমর্থন প্রয়োজন, যারা নির্বাচনে ১৯টি আসন জিতেছে। কিন্তু ইহুদি বিরোধী দলগুলোর বেশিরভাগই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে অনাগ্রহী হওয়ায় নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে চারটি ইহুদি বিরোধী দলের আসনসংখ্যা ৪৮, যেখানে নেতানিয়াহুর জোটের রয়েছে ৫৩টি আসন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান। বৈঠকে গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূল নীতির ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক শক্তি ও শাসনের অবসান ঘটানো। বিবৃতিতে নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে ৭ অক্টোবরের পরিস্থিতির পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নেসেটের নতুন অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে লিকুদ দলের আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি করা সম্ভব হলে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা বিভিন্ন আইন ও তদন্তের পথ সহজ হবে। বিশেষ করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ওহানার পরিবর্তে লাপিদকে স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সোমবার নেওয়া হবে।

বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ হিসেবে গাদি আইজেনকটকে নাম প্রস্তাব করার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে আলোচনার জন্য দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নেতানিয়াহু ও তার দলের প্রচারণাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’।

নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার পেছনে কাতার বা বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে লিকুদ পার্টি অভিযোগ করলেও, এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন তদারকিতে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার লিকুদের দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন।

বি’ইয়াচাদ নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দ্রুত ‘জাতীয় পুনর্গঠনমূলক জায়নবাদী সরকার’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে সামরিক সেবায় নিয়োজিতদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করা জরুরি। ইয়ার লাপিদও সরকারকে উদ্ধারের তাড়াহুড়োর বিষয়টি সামনে এনে নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোকে সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন। নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরানো প্রয়োজন।

জোট গঠনের আগে ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমেদ তিবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের পর এই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর পাওয়া গেল। গোলানের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেতানিয়াহু সরকারকে সরানোর লক্ষ্য অর্জনে সমন্বয় এবং আরব জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তারা একমত হয়েছেন। গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে কথা বললেও, বিরোধী জোটের বাকি নেতারা এখনো তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন।

লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন। তবে কীভাবে এমন সরকার গঠন করা যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি লিবারম্যান।

যদিও তিনি হারেদি বা অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিয়েছেন। তবে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে হারেদি দলগুলোর সরকারে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগের মতো দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেননি তিনি।

এদিকে, লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে যে, বিরোধীরা হামাস ও হিজবুল্লাহর সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল একটি বিপজ্জনক সরকার গঠনের পায়তারা করছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এমন সরকার অকার্যকর হবে বলে লিকুদের দাবি। একই সঙ্গে, ২০২৩ সালের ব্যর্থতার কারণে নেতানিয়াহুর ওপর গভীর অনাস্থা জানিয়ে বিরোধী নেতারা তার ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Facebook Comments Box