দৌলতপুরে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি: ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ  : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
দৌলতপুরে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি: ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ  : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

দৌলতপুরে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি: ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ 

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) থেকে আহাদ আলী নয়ন
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
দৌলতপুরে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি: ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ 
বন‍্যায় প্লাবিত বাড়ি ঘর।

 

 

দৌলতপুরে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি: ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ

 

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীতে পানি বেড়েছে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পদ্মাপাড়ের মানুষদের।

 

 

দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষেত। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এই দুই ইউনিয়ন মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন দুটিতে অবস্থিত প্রায় ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ভারতে থেকে ফারাক্কা হয়ে পানি পদ্মায় পড়ছে। গত ২ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

বুধবার সকালে উপজেলার ভাগজোত পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৪.৭২ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টের বিপদসীমা হল ১৫.৭০ সেন্টিমিটার। সে অনুযায়ী বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার (০.৯৮ মিটার) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা নদীতে প্রতিদিন হু হু করে পানি বাড়ছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনো ছিল, এখন সেখানে বন্যার পানিতে থৈই থৈই করছে। যেদিনে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন দুটি মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পড়ুন>> কাউনিয়ায় স্ত্রীর সাথে অভিমান করে মুয়াজ্জিনের আত্মহত্যা

 

ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু’একদিনের মধ্যেই এসব গ্রামের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে । এদিকে ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর চরাঞ্চলের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মরিচ, কলা, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

 

 

গতকাল বুধবার বিকেলে বন্যা কবলিত চিলমারী এলাকা পরিদর্শন করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী। পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

 

 

এ সময় দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হোসেন আহমেদ, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

 

 

চিলমারী এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শেখ নুরুজ্জামান জানান, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বিঘা জমির ফসল ক্ষেতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে।

পড়ুন>> দৌলতপুরে বাকিতে সিগারেট না দেয়ায় কান কামড়ে ছিড়ে দিল দোকানীর

 

 

মরিচা ইউনিয়নের ভূরকাপাড়া গ্রামের জামিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। কেননা নদীর পাড়ের ব্যাপক অংশ অরক্ষিত রয়েছে। যে কোন সময় এসব অংশ নিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। এ জন্য জরুরী ভিত্তিতে নদীর অরক্ষিত পাড় রক্ষা করা জরুরী।

 

 

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, রাস্তাঘাটে পানি ঢুকে পড়ায় চিলমারী ইউনিয়ন মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যে কোন সময় চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে যেতে পারে।

 

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইঊনিয়নের ১৮টি বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকবে যাতে বন্যাকবলিত মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।

পড়ুন>> রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদ

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মরিচ, রোপা আউশ, কলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ভুট্রা বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে এখনও যেসব জমিতে পানি প্রবেশ করেনি সেগুলোও আক্রান্ত বা তলিয়ে যেতে পারে।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বন্যায় ঝুকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া, শুকনো খাবারসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!