সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় চৌহালী থানা পুলিশ। অভিযানে ধৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঢাকার হাজারীবাগ ডিএমপির বসিলা এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফিরোজ আহমেদ (২৪) এবং চৌহালী উপজেলার পশ্চিম জোতপাড়া গ্রামের মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. সোলায়মান (২৭)।
চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক জানান, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”
অভিযানে চৌহালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাফিজুর রহমান ও মাহমুদুল হাসান সহ পুলিশের একাধিক সদস্য অংশ নেন।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। চৌহালীতে কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শীঘ্রই নদীর অপর পাশেও অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এ কাজে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সহযোগিতা নেব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তারা আইনের আওতায় আসেনি। এবার পুলিশের সজাগ তৎপরতায় ধরা পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, “শুধু অভিযান চালালেই হবে না, মাদকের মূল উৎস চিহ্নিত করে তা উৎপাটনের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ, নিয়মিত নজরদারি ও আইনি কঠোরতা।”
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে, চৌহালীতে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply