চিলমারী ঘাটে দুর্নীতির তথ্য লোপাট করতে সাংবাদিকের ফোন ছিনতাই
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৯১১৬ বার পড়া হয়েছে
চিলমারী ঘাটে দুর্নীতির তথ্য লোপাট করতে সাংবাদিকের ফোন ছিনতাই
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অনিয়মের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘাট কর্তৃপক্ষের কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছিল। তিনি বলেন,
“টোকেনে যে ভাড়া লেখা আছে, আমি সেটাই দিতে চাই।
অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে যেতে দেবে না বলে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়।”
ঘটনার খবর পেয়ে অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন। তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে ঘাট ইজারাদার পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।একপর্যায়ে শফি আলম নামে এক টিকিট মাস্টার সাংবাদিকের হাত থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেয়।
পড়ুন>> কুড়িগ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু: আটক ৩
ঘটনার সময় উপস্থিত যাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, “আজ যাত্রী বেশি দেখে ঘাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল। সাংবাদিক ভিডিও করলে তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আমরা প্রতিবাদ করলে ইজারাদার নৌকা ছাড়বে না বলে হুমকি দেয়।”
এ ঘটনায় আশপাশে থাকা যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধারণকৃত ভিডিওটি দৈনিক কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চাপের মুখে সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে নিয়মিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি চান সাধারণ যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই আমার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা।”
এ বিষয়ে ইজারাদার পক্ষের একজন বলেন,“কোটি টাকা দিয়ে ঘাট নিয়েছি। ভাড়া বেশি মনে হলে যাইয়েন না।”
পড়ুন>>দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১জন নিহত
তবে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি এবং ভিডিও দেখেছি। দ্রুত পোর্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও যাত্রী অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























