ভূরুঙ্গামারীতে নদীর ভাঙ্গন থেকে জমি ও ঘরবাড়ি বাঁচাতে নারী পুরুষের সংগ্রাম
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৩৭৯৮০ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের কালজানি নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে ঘরবাড়ি সড়িয়ে নিচ্ছেন ভাঙ্গন কবলিতরা। স্থানীয় ভাবে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা এলাকাবাসীর। ভাঙ্গন কবলিতদের সান্তনা দিচ্ছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
ভূরুঙ্গামারীতে নদীর ভাঙ্গন থেকে জমি ও ঘরবাড়ি বাঁচাতে নারী পুরুষের সংগ্রাম
“আমাগো বাড়ি ভাইঙ্গা যায় যাইকগা, আফনেরা গেরামডারে বাচান স্যার।” কান্নাজড়িত কন্ঠে এমন আকুতি জানাছিলেন ভাঙ্গনের শিকার খুশিমন বেগম। ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের কালজানী নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষার করতে নিজেদের উদ্যোগে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসী। নারী-পুরুষ মিলে স্থানীয়ভাবে সংগৃহিত বস্তায় বালি ভর্তি করে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন জানান, ভাঙ্গন এলাকার উজানে প্রায় ১৩০০ মিটার নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝখানে প্রায় ১৫০০ মিটার বাদ দিয়ে ভাটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিলো। এরফলে মাঝখানের এলাকাটিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে গত বছর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দুবছরে প্রায় শতাধিক পরিবার জমাজমি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে কালজানি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
জানা গেছে, মর্তুজা নামে একব্যক্তি ১৫০০ খালি পলিথিনের বস্তা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ ৫০০ খালি বস্তা এবং জোবায়ের নামের এক যুবক ২ হাজার টাকা সাহায্য করেছেন। সকলে মিলে সেসব বস্তায় বালু ভর্তি করে ভাঙ্গন ঠেকাতে নিজেরাই নদীতে ফেলছেন।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ জানান, চলতি মৌসুমে কালজানী নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ৫০টি পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে। তাদের অনেকেই ৩ থেকে ৪ বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকার খুশিমন বেগম (৩০) শনিবার সকালে নিজের বাড়ি ঘর সরাচ্ছেন। এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, “আমাগো বাড়ি ভাইঙ্গা যায় যাইকগা, আফনেরা গেরামডারে বাচান স্যার।”
পড়ুন>> সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে আটক ২
সাইজুদ্দিন, মোজাফ্ফর এবং মোফাজ্জল জানান, গত বছর থেকে নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এবছর আমরা নদী ভাঙ্গনের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাইনি। তারা বলেন, এখানে একটি বিজিবি ক্যাম্প , একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকাতে তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনো পাইনি। তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন>> মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ঐ এলাকার জন্য ২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গতকাল শনিবার বিকালে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি এলাকার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমার আসনের ভাঙ্গন কবলিত অধিকাংশ এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে জানানোর পর কিছু জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























