কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অস্ত্রের মুখে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের প্রায় ২৩ পর পার্শ¦বর্তি ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মার চর থেকে উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর বাজার থেকে সাইফুল ইসলাম (৪৩) নামের ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। তিনি বৈরাগীরচর রিফিউজি পাড়া গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার দিবারাত ৯টার দিকে কয়েকজনের একদল সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী পদ্মা নদী পথে স্পীডবোর্ট যোগে উপজেলার বৈরাগীরচর পূর্বপাড়ায় আসে। এ সময় স্থানীয় গবাদীপশু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে অপহরণ করে ফের বৈরাগীরচর নদীর ঘাট দিয়ে স্পীডবোর্ট যোগে চলে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে চরাঞ্চল ও নদীতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত সাইফুলকে উদ্ধার করতে পারেনি। বিপুল সংখ্যক পুলিশ শনিবার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা পদ্মার চরাঞ্চলে অভিযান চালায়।
সন্ত্রাসীরা সাইফুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আহত অবস্থায় পদ্মার চরে ফেলে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।
অপহৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে মুন্না ইসলাম বলেন, বাবাকে ফেরত পেয়েছি। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনারয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা অপহরণের সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোলায়মান শেখ বলেন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দৌলতপুর থানা পুলিশের বিশাল টিম অপহরণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করে। একাধিকা গোয়েন্দা নজরদারী ও তৃতীয় এক পক্ষকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে শনিবার রাত ৮ টার দিকে পুলিশ রায়টা এলাকার পদ্মার চর থেকে তাকে উদ্ধার করে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।
অপহৃত সাইফুলের শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে ধারনা করা হচ্ছে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপহরণকারীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর একাধিক টীম কাজ করছেন।
Leave a Reply