ইউএস ওপেনের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল টেনিস বিশ্ব। গভীর রাতে গড়ানো এই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন মার্কিন তারকা বেন শেলটন। ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ফলাফল ছিল ৬-৭ (৫-৭), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) সেটের ব্যবধানে।
ম্যাচটি স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে শেষ হয়, যা ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে শেষ হওয়া ম্যাচ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনারের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি রাত ২টা ৫০ মিনিটে শেষ হয়েছিল, যা ছিল আগের রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো, যদিও আলকারাজ এবার জয়ী হিসেবে নয়, বরং পরাজিত হিসেবে এই রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আলকারাজের অনুকূলে। প্রথম সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর টাইব্রেকে ৭-৫ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তিনি এগিয়ে যান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেলটন দ্বিতীয় সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে স্প্যানিশ তারকাকে চাপে ফেলে দেন। তৃতীয় সেটেও একই আগ্রাসন বজায় রেখে ৬-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ম্যাচে ২-১ সেটে এগিয়ে যান এই মার্কিন তারকা।
চতুর্থ সেটে আলকারাজ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন এবং শেলটনকে মাত্র এক গেমে আটকে রেখে ৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচটি নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে নিয়ে যান। শেষ সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভ ধরে রেখে ৬-৬ সমতায় পৌঁছান। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ১০ পয়েন্টের ম্যাচ টাইব্রেকের প্রয়োজন হয়।
পঞ্চম সেটের টাইব্রেকারে শেলটনের ৮-৭ লিডের সময় ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে। শেলটনের সার্ভ থেকে ঘণ্টায় ১৪৬ মাইল গতির একটি বিধ্বংসী সার্ভ আলকারাজকে কঠিন চাপে ফেলে দেয়। পরের পয়েন্টেই আলকারাজের ফোরহ্যান্ড বাইরে চলে গেলে শেলটন ম্যাচ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান। শেষ পর্যন্ত ১০-৭ ব্যবধানে টাইব্রেক জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয়টি তুলে নেন তিনি। আলকারাজের বিপক্ষে এটি শেলটনের প্রথম জয়, এর আগে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, কব্জির ইনজুরির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর এই টুর্নামেন্ট দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরেছিলেন আলকারাজ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে সংশয় থাকলেও তিনি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত শেলটনের কাছে হেরে তাঁর শিরোপা ধরে রাখার মিশন এখানেই থেমে গেল।
Leave a Reply