ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার বিমানবন্দর: রানওয়ে ও টার্মিনাল প্রস্তুত শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি আদর্শ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদনের নিয়ম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিধবা সুফিয়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাল জামায়াত মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশির সন্ধান মিলল আজ শুরু নোবেল মৌসুম: চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোচনার শীর্ষে যেসব গবেষণা

হাটহাজারীতে মধ্যরাতে প্রবাসীর বাড়িতে দরজা ভেঙেনারী নির্যাতনের চেষ্টা

চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৮১৭৫ বার পড়া হয়েছে

হাটহাজারীতে মধ্যরাতে প্রবাসীর বাড়িতে দরজা ভেঙেনারী নির্যাতনের চেষ্টা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

হাটহাজারীতে মধ্যরাতে প্রবাসীর বাড়িতে দরজা ভেঙেনারী নির্যাতনের চেষ্টা

 

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

 

 

 

এক প্রবাসীর পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, ভাংচুর, নারী নির্যাতনের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।

পড়ুন>> সান্তাহারে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

 

 

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী থানাধীন ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ শামসুর নাহার (৫৫), স্বামী মৃত ইছহাক, পিতা বদল মিয়া, তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে একটি বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মোঃ আরমান (৩৪)6 দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ছুটিতে আসেন। দেশে ফিরে তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন।

 

 

 

কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আবারও পূর্বের শত্রুতার মুখোমুখি হন। অভিযোগে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন জানে আলম ওরফে কালু (৪৫), পিতা মৃত জাফর সওদাগর; মোঃ ওসমান (২২), পিতা জানে আলম কালু; উভয় সাং খন্দকিয়া, জাফর সওদাগরের বাড়ি, ০৯নং ওয়ার্ড, ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এছাড়া মোঃ বেলাল (৪৪), পিতা মোঃ ফকির; মোঃ কাদের (৫০), পিতা মৃত আব্দুর রহমান; মোঃ ছৈয়দ (৪০), পিতা মৃত শফি; সর্ব সাং পশ্চিম বাথুয়া, ১৪নং শিকারপুর ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এবং তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।

পড়ুন>>কাউনিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম 

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলে পূর্বে দেশে ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্র ধরে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো, অপমান করা হতো এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হতো। বিদেশে থাকার সময়ও তার পরিবার এই চাপে ছিল বলে জানা যায়।

 

 

 

দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। প্রবাসী আরমানকে লক্ষ্য করে পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এলাকায় ব্যবসা করতে হলে নিয়মিত টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে।

 

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার সময় উল্লিখিত আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র যেমন দা, ছুরি, লাঠি, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বেআইনিভাবে বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে।

আরও  পড়ুন>>কাউনিয়ায় গলায় ওড়না পেছিয়ে গৃহবঁধূর আত্মহত্যা 

 

তারা মোঃ আরমানের নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং তাকে বের হয়ে আসার জন্য হুমকি দেয়। সেই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় শামসুর নাহার ও তার পরিবারের নারী সদস্যরা আতঙ্কে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেন।

 

 

কিন্তু সন্ত্রাসীরা এতে ক্ষান্ত না হয়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। একটি স্টিলের আলমিরার আয়না ভেঙে ফেলে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। এতে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

শুধু ভাংচুরেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। শামসুর নাহারসহ তার বড় পুত্রবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস (৩০) এবং মেঝো পুত্রবধূ জান্নাত (২৮)-কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আরও  পড়ুন>> নাগেশ্বরীতে কালবোশেখী ঝড়ে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি

 

ঘটনার এক পর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় তারা একাধিক গুরুতর হুমকি দিয়ে যায়। তারা জানায়, মোঃ আরমানকে যেখানে পাবে সেখানেই তাকে মারধর করবে, তার হাত-পা ভেঙে দেবে এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে।

 

 

এছাড়া তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, অপহরণ, গুম এবং হত্যার হুমকিও প্রদান করে। এসব হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

 

ভুক্তভোগী মোঃ আরমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করেছি। দেশে ফিরে ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকব এবং ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করব। কিন্তু এখানে এসে দেখি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির কারণে কোনোভাবেই ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ব্যবসা শুরু করলেই তারা টাকা দাবি করে এবং না দিলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া যে তারা কথায় কথায় মানুষের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। আমরা এখন এমন অবস্থায় আছি যে, নিজের এলাকায় থেকেও নিরাপদ নই।

 

 

তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকার কষ্ট থাকলেও অন্তত নিরাপত্তা ছিল, কিন্তু দেশে এসে এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। চাঁদাবাজি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা করতে গেলে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়, অন্যথায় হামলার শিকার হতে হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে এই এলাকা শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে কেউ নিরাপদ নয়। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাটহাজারীতে মধ্যরাতে প্রবাসীর বাড়িতে দরজা ভেঙেনারী নির্যাতনের চেষ্টা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

 

 

 

হাটহাজারীতে মধ্যরাতে প্রবাসীর বাড়িতে দরজা ভেঙেনারী নির্যাতনের চেষ্টা

 

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

 

 

 

এক প্রবাসীর পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, ভাংচুর, নারী নির্যাতনের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।

পড়ুন>> সান্তাহারে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

 

 

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী থানাধীন ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ শামসুর নাহার (৫৫), স্বামী মৃত ইছহাক, পিতা বদল মিয়া, তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে একটি বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মোঃ আরমান (৩৪)6 দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ছুটিতে আসেন। দেশে ফিরে তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন।

 

 

 

কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আবারও পূর্বের শত্রুতার মুখোমুখি হন। অভিযোগে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন জানে আলম ওরফে কালু (৪৫), পিতা মৃত জাফর সওদাগর; মোঃ ওসমান (২২), পিতা জানে আলম কালু; উভয় সাং খন্দকিয়া, জাফর সওদাগরের বাড়ি, ০৯নং ওয়ার্ড, ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এছাড়া মোঃ বেলাল (৪৪), পিতা মোঃ ফকির; মোঃ কাদের (৫০), পিতা মৃত আব্দুর রহমান; মোঃ ছৈয়দ (৪০), পিতা মৃত শফি; সর্ব সাং পশ্চিম বাথুয়া, ১৪নং শিকারপুর ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এবং তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।

পড়ুন>>কাউনিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম 

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলে পূর্বে দেশে ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্র ধরে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো, অপমান করা হতো এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হতো। বিদেশে থাকার সময়ও তার পরিবার এই চাপে ছিল বলে জানা যায়।

 

 

 

দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। প্রবাসী আরমানকে লক্ষ্য করে পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এলাকায় ব্যবসা করতে হলে নিয়মিত টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে।

 

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার সময় উল্লিখিত আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র যেমন দা, ছুরি, লাঠি, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বেআইনিভাবে বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে।

আরও  পড়ুন>>কাউনিয়ায় গলায় ওড়না পেছিয়ে গৃহবঁধূর আত্মহত্যা 

 

তারা মোঃ আরমানের নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং তাকে বের হয়ে আসার জন্য হুমকি দেয়। সেই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় শামসুর নাহার ও তার পরিবারের নারী সদস্যরা আতঙ্কে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেন।

 

 

কিন্তু সন্ত্রাসীরা এতে ক্ষান্ত না হয়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। একটি স্টিলের আলমিরার আয়না ভেঙে ফেলে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। এতে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

শুধু ভাংচুরেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। শামসুর নাহারসহ তার বড় পুত্রবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস (৩০) এবং মেঝো পুত্রবধূ জান্নাত (২৮)-কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আরও  পড়ুন>> নাগেশ্বরীতে কালবোশেখী ঝড়ে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি

 

ঘটনার এক পর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় তারা একাধিক গুরুতর হুমকি দিয়ে যায়। তারা জানায়, মোঃ আরমানকে যেখানে পাবে সেখানেই তাকে মারধর করবে, তার হাত-পা ভেঙে দেবে এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে।

 

 

এছাড়া তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, অপহরণ, গুম এবং হত্যার হুমকিও প্রদান করে। এসব হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

 

ভুক্তভোগী মোঃ আরমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করেছি। দেশে ফিরে ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকব এবং ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করব। কিন্তু এখানে এসে দেখি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির কারণে কোনোভাবেই ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ব্যবসা শুরু করলেই তারা টাকা দাবি করে এবং না দিলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া যে তারা কথায় কথায় মানুষের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। আমরা এখন এমন অবস্থায় আছি যে, নিজের এলাকায় থেকেও নিরাপদ নই।

 

 

তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকার কষ্ট থাকলেও অন্তত নিরাপত্তা ছিল, কিন্তু দেশে এসে এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। চাঁদাবাজি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা করতে গেলে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়, অন্যথায় হামলার শিকার হতে হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে এই এলাকা শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে কেউ নিরাপদ নয়। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়।

 

Facebook Comments Box