ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় দেওয়ার অভিযোগ রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় দেওয়ার লিখিত অভিযোগ রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের বিরুদ্ধে
ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় প্রদান, নোটিশ গোপন, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা, নাজির তোফাজ্জল হোসেন ও পেশকার মোঃ শামীম হোসেন।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা লুৎফর রহমান গত ৬ মে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির ডকেট নম্বর- ০৬০০৭। একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ ৭ মে দায়ের করেন ইনছার আলী নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য। উভয়ের জমি চর-ভূরুঙ্গামারী মৌজার জে.এল নং-৫০ এলাকায় অবস্থিত।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে ঝুঁকিয়া খাল পুনঃখনন কর্মসুচির উদ্বোধন
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেসে বিবাদীপক্ষ ১৯৭০ সালের একটি কথিত আমোক্তানামা দলিল উপস্থাপন করে। তবে বাদীপক্ষ দাবি করে, তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালের বৈধ দলিলের মাধ্যমে মোট ২ দশমিক ৫০ একর জমি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ওই জমি সাব-কবলা দলিলমূলে ক্রয় করেন লুৎফর রহমান গং। এরপর নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নামে ডি.আর.এ রেকর্ড ও ডি.পি খতিয়ান প্রস্তুত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩১ ধারার শুনানিকালে ২০২০ সালে ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে উভয় পক্ষ হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। এ সময় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
কিন্তু ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২১ সালের ৭ মার্চ লুৎফর রহমানকে গরহাজির দেখিয়ে তার রেকর্ডীয় ১ দশমিক ৬২ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৪২ একর কর্তন করে বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়া হয়।
পড়ুন>> সাংকেতিক টোকায় বিক্রি হতো ইয়াবা: পুলিশের অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী
পরে প্রতিকার চেয়ে লুৎফর রহমান ৪২(ক) ধারায় রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আবেদন করেন। মামলাটি ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেস হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা জানান, বিবাদীপক্ষের ১৮৭৩৮/৭০ নম্বর আমোক্তানামা দলিলের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। পরে এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মতামতও চাওয়া হয়।
জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, দলিলটির উৎস স্পষ্ট না হওয়ায় এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এরপরও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পুনরায় চিঠি দিয়ে দলিলের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় গোপনে আগের তারিখ ব্যবহার করে রায় প্রস্তুত করা হয়। তিনি জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অফিসে যোগাযোগ করলে পেশকার শামীম হোসেন প্রথমে প্রতিবেদনের তথ্য না আসার কথা বললেও পরে জানতে পারেন, তার বিপক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন>> তাহিরপুর যাদুকাটা নদীতে টাস্কফোর্স অভিযানের ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলা
লুৎফর রহমানের অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তি আগেই তাকে জানিয়েছিলেন, দুই লাখ টাকা ঘুষ না দিলে তার পক্ষে রায় হবে না। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার সি.এস, এস.এ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সব বৈধ দলিল, নামজারি ও খাজনার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু ঘুষ না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল রায়ের কপি হাতে পেয়ে তিনি দেখতে পান, আদেশে রায়ের তারিখ দেখানো হয়েছে ৮ এপ্রিল ২০২৫। অথচ ওই রায়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে জোনাল অফিস থেকেই ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এতে ব্যাকডেটে রায় প্রদানের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লুৎফর রহমান জানান, রায় নিয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদার সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, “রায়ে অসন্তুষ্ট হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যান।”
অপরদিকে, একই অফিসের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগে ইনছার আলী দাবি করেন, যথাযথ নোটিশ প্রদান ছাড়াই তার জমি সংক্রান্ত মামলার নথিজাত ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন>> শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে চুক্তি
অভিযোগকারীরা মহাপরিচালকের কাছে মিসকেস নং-৯৩/২৩ ও সংশ্লিষ্ট আপিল মামলার রায় বাতিল, ডি.পি খতিয়ান বহাল এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে ইনটেনশনি কষ্ট দেওয়া বা কারো ক্ষতি করা আমার দ্বারা সম্ভব না। আজ ছুটির দিন তাই আমাকে একটু সময় দেন আমি সকল নথিপত্র চেক করে বিস্তারিত আমি আপনাকে জানাবো।

























