স্পাইডারম‍্যান আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
স্পাইডারম‍্যান আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পর্তুগাল থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনায় সিক্ত হলেন তালুকদার গিয়াস উদ্দিন ভাইরাল তাজু ভাই এবার টাইমস টুডের মফস্বল সাংবাদিক রাণীশংকৈলে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক দ্বিতীয় স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও ঋণের চাপে ইউপি সদস্যের আত্মহত্যার অভিযোগ কদমতলীতে জাল নোট তৈরির কারখানায় অভিযানে জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ২ দৌলতপুরে ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে বাবার মৃত‍্যু ফেসবুকে ৩০ জুলাই এসএসসি ফল প্রকাশের গুঞ্জনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান শিক্ষা বোর্ডের ভিসার ঝামেলা ছাড়াই ভ্রমণ এশিয়ার ৬ দেশ: জেনে নিন তালিকা দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক নাগেশ্বরীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ভ্রাম্যমান সৌরসেচ ব্যবস্থা বিতরণ

স্পাইডারম‍্যান আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা

সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩
স্পাইডারম‍্যান আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা

স্পাইডারম‍্যানের আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা।নাম ইসমাইল হোসেন। তবে শাগরেদদের কাছে তিনি পরিচিত ‘স্পাইডারম্যান’ (মাকড়সা-মানব) হিসেবে। মাকড়সার মতো দেয়াল ও ভবনের পাইপ পেয়ে উঠে যেতে পারেন বলে তাঁর এই পরিচিতি।

অবশ্য পুলিশের চোখে ইসমাইল একজন পেশাদার চোর। ঢাকায় যেসব চোর গ্রিল কেটে চুরিতে সিদ্ধহস্ত, তাঁদের একজন ইসমাইল। তাঁর দলে ২০ জন সদস্য রয়েছেন। এঁদের বেশির ভাগ তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেন। তথ্যের ভিত্তিতে ইসমাইল নিজের শাগরেদদের নিয়ে চুরি করেন।

ঢাকায় ইসমাইলের মতো কয়েকজন গ্রিলকাটা চোরকে গ্রেপ্তার ও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, চোররা বেশি সক্রিয় থাকে বড় ছুটির সময়। এই সময় সাধারণত মানুষ বাসা খালি রেখে বেড়াতে যায়। কোন বাসা খালি, তা চোরেরা আন্দাজ করে বাতি দেখে। কোনো বাসায় যদি সন্ধ্যার সময় বাতি না জ্বলে, তাহলে চোররা ধরে নেয় বাসাটি খালি।

রাজধানীবাসীর জন্য গ্রিলকাটা চোরেরা এখন বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এ ধরনের চুরি বাড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হিসাবে, ২০২২ সালে ঢাকায় বাসাবাড়িতে ৭১৩টি সিঁধেল চুরির মামলা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, গ্রিল কেটে চুরির ঘটনাগুলোকেই সিঁধেল চুরি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে পুলিশ।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মামলার চেয়ে প্রকৃত চুরির ঘটনা অনেক বেশি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলার ঝামেলায় যেতে চান না। মামলা করলে মালামাল উদ্ধার হবে, সেই আশাও অনেকের নেই।

কারও কারও অভিযোগ, পুলিশ চুরির মামলায় তদন্তে আগ্রহ দেখায় না। চোরদের শাস্তি নিশ্চিত করতে লেগে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত না করে মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ফলে একই চোরেরা বছরের পর বছর চুরি করে।

ছোট অপরাধে’ ব্যক্তির বড় ক্ষতি
রাজধানীতে বহুতল ভবনে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়। আবার এলাকাভিত্তিক নৈশপ্রহরীও থাকে। এলাকাবাসী নিজেরা অর্থ ব্যয় করে নিরাপত্তার এই ব্যবস্থা করেন। বাসায় তালা তো থাকেই। ওদিকে জনগণের করের টাকায় ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অনেকেও বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। এরপরও নিরাপদ থাকা যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ বলছেন, চুরি ঠেকাতে হলে চোরের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি ধরা পড়ার পর কয়েক মাস কারাগারে থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা যায়, মামলার বিচার শেষ না হয়, তাহলে চোরেরা তো উৎসাহিত হবেই।

পুলিশের কাছে চুরি একটি ছোট অপরাধ হতে পারে, ভুক্তভোগীর কাছে সেটি সারা জীবনের সঞ্চয় অথবা সম্পদ হারানো। অনেক পরিবারই আর্থিকভাবে সংকটে পড়ে যায় চুরির কারণে। এখন খুনের ঘটনাও ঘটছে।

ঢাকার হাতিরঝিলের আবরার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাসায় গত বছরের মে মাসে চুরি হয়। চোরেরা পাঁচ ভরি সোনার গয়নাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও চোরদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

মামলাটির খোঁজ রাখেন আবরারের স্বজন ইশতিয়াক ইমন। তিনি  বলেন, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। তবে চোর শনাক্ত করতে পারেনি। পুলিশ বিভিন্ন সময় বলেছে, সিসি ক্যামেরা কোনো ফুটেজ অস্পষ্ট, কোনোটির ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়নি। পড়ুন>> মুক্তাগাছায় ৭ বছরের শিশুর সাথে বিকৃত যৌনাচারের দায়ে যুবক গ্রেফতার

কাউকে শনাক্ত করতে না পেরে পুলিশ এখন মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলছে।দরকার, আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া দরকার, বিচারের পর্যায়ে সাক্ষ্য দেওয়া দরকার, তা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয় না।

ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত তদারকিতে ডিএমপির একটি ‘মনিটরিং সেল’ রয়েছে। এর সভায় মূলত খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ—এই পাঁচ ধরনের মামলা নিয়ে আলোচনা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এসব মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চুরির মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় না। এ কারণে চুরির ঘটনা নিয়ে খুব বেশি মনোযোগ দিতে চায় না থানা-পুলিশ।

ডিএমপি গত সেপ্টেম্বরে আজিজুল ফকির নামে ‘চোরচক্রের’ এক প্রধানকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন করেছিল। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, গ্রিল কেটে চুরিতে পারদর্শী। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

যোগাযোগ করা হলে আজিজুল গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, তিনি অনেক আগেই জামিনে বেরিয়ে গেছেন।ইশতিয়াক বলেন, গুরুত্ব দিলে পুলিশ চোরদের ধরতে পারত।তথ্য সুত্র

Please Share This Post in Your Social Media

2 responses to “স্পাইডারম‍্যান আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানী ঢাকার  অধিবাসীরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!