কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা আসামীকে ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করলো পুলিশ
নাগেশ্বরীতে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার আসামি সত্য চন্দ্র শীল (৫০)কে ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় ব্যবহত কাঠের হাতলযুক্ত রক্তমাখা ধাঁরালো কুড়াল ও আসামীর পরিহিত সাদার রংয়ের রক্তমাখা সোয়েটার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গতকাল রবিবার বিকেলে পুলিশের অভিযান চালিয়ে লালমনির হাট আদিতমারী এলাকা থেকে সত্য চন্দ্রকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়,নাগেশ্বরী পৌরসভার কবিরের ভিটা গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্রী সত্য চন্দ্র শীল (৫০) তার স্ত্রী লতা রানী (৪০) কে নৃশংসভাবে গলায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার সংবাদ পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামী সীমন্তবর্তী এলাকা লোহাকুচি বর্ডার হয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় ঘটনার ১২ ঘন্টার মধ্যে পলাতক সত্য চন্দ্র শীলকে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানাধীন পলাশী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়াইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য যে, ২০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ আসামী শ্রী সত্য চন্দ্র শীল সেলুনের কাজ করে রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় বাড়ীতে এসে স্ত্রীর সাথে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আসামী সত্য চন্দ্র শীলের দুই ছেলে শ্রী সোহাগ চন্দ্র শীল (২৫) ও শ্রী সাগর চন্দ্র শীল (১৭) রাতের খাবার খেয়ে রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় নিজ নিজ শয়ন ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘটনার রাত ২১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় আসামী সত্য চন্দ্র শীল এর ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে ঘুম থেকে উঠে ঘরের মধ্যে টেবিলের উপর রাখা কাঠের হাতল যুক্ত ধাঁরালো কুড়াল হাতে নিয়ে খাটের উপর ঘুমিয়ে থাকা তার স্ত্রী লতা রানী শীল এর গলায় পরপর দুটি কোপ মারলে ভিকটিম লতা রানী শীল ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেন।
পার্শ্বের কক্ষে শুয়ে থাকা ছোট ছেলে সাগর শীল (১৭) তার মা-বাবার শয়ন ঘরে শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় যে, তার মা ভিকটিম লতা রানী খাটের উপর রক্তাক্ত ভাবে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ছোট ছেলে সাগর শীল তার বড় ভাইকে চিৎকার করে ডাক দিলে বড় ভাই সোহাগ শীল (২৫) বাবা-মার শয়ন ঘরে এসে তার মাকে খাটের উপর রক্তাক্ত ভাবে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পায়।
তাদের দুই ছেলে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে গেলে আসামী শ্রী সত্য শীল ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে আত্মগোপন করে। উক্ত মামলা সংক্রান্তে গভীর ও আইনানুগ তদন্ত চলমান।
Leave a Reply