ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

পাওনা টাকার জন্য গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ: বিচার না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

সাইয়‍্যেদ বাবু ব‍্যুরো প্রধান
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

পাওনা টাকার জন্য গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ: বিচার না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাওনা টাকার জন্য গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ: বিচার না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিচার না পেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী একসাথে বিষপান করেন। এতে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৪ মে) ওই দম্পতি একসাথে বিষপান করেন। হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে বুধবার (২৯ মে) দুপুরে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম আশা বেগম। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। তাদের ঘরে তিন বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলপাড়া গ্রামের আবুসামার ছেলে জয়নাল মিয়া এবং তার সহযোগী কারিগর পাড়ার শুক্কুর কসাই, ডাকাত পাড়ার আলম কসাই ও টাঙ্গাইল পাড়ার সোলেমান।

মৃত্যুর আগে গত ২২ মে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে দেওয়া ওই গৃহবধূর জবানবন্দির একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তাতে ওই গৃহবধূ পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন। রোমহর্ষক বর্ণনায় উঠে এসেছে কীভাবে জয়নাল ও সহযোগীরা দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করেছে।

বর্ণনায় ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তার বাবা নেই। মা গৃহকর্মীর কাজে বিদেশে গেছেন। স্বামী টাঙ্গাইলে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীর ধার করা পাওনা টাকা দিতে না পারায় স্থানীয় জয়নাল মিয়া গত রমজান মাসের শুরু থেকে তাকে ধর্ষণ শুরু করেন। পরে তার সহযোগী আলম কসাই, শুক্কুর কসাই ও সোলেমান সহ তাকে দিনের পর দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে তিনি বাধ্য হয়ে তার স্বামীকে বিস্তারিত ঘটনা জানান। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার দিলেও মেলেনি।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, পাওনা টাকা আদায়ের অছিলায় প্রথমে জয়নাল মিয়া তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। পরে জয়নাল তার সহযোগী আলম, শুক্কুর ও সোলেমানকে নিয়ে এসে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মোবাইল ফোনে সেই ধর্ষণের ভিডিও করে তা প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানাতে ভয় দেখায়। এরপর ব্ল‍্যাকমেইল করে জয়নাল ও শুক্কুর মিলে তাকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতনে অতিষ্ট এই গৃহবধূ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাধ্য হয়ে বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানান।

তিনি বলেন, ‘এরপরও জয়নাল আবার ফোন দিয়ে আমার কাছে টাকার চাপ দেয় এবং টাকা কিভাবে তোলা লাগে সে হুমকিও দেয়।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইল থেকে ফিরে দেখি বউয়ের শরীর ভাইঙ্গা গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলে সে শুধু কান্নাকাটি করে। পরে সব জানতে পারি। বিচার চাইলে তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জয়নাল আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।’

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সহ স্থানীয়দের কাছে বিচার দিলেও কোনও সুরাহা মেলেনি।

এরপর গত শুক্রবার (২৪ মে) ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপে­ক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু আর্থিক সামর্থ না থাকায় এই দম্পতি বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার বাড়িতেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দম্পতির বিষপানের পর স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ম্যানেজ বাদেও ভুক্তভোগীদের ২০ হাজার টাকা দেওয়ার বিনিময়ে ঘটনা মিমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। জয়নাল ভুক্তভোগীদের চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা দিলেও তা নিতে অস্বীকৃতি জানান ওই দম্পতি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে জয়নাল মিয়ার নাম্বারে ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ ঘটনা গোপন ছিল। আমরা জানতাম না। আর ওই চ্যাংড়া (গৃহবধূর স্বামী) একেকবার একেক কথা কয়। বিষ খাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জয়নাল ২০ হাজার টাহা দিছে। হের স্বামী নেয় নাই।’

অভিযুক্তদের অবস্থান ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নে এই ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, ‘জয়নাল ও শুক্কুর কই আছে জানা নাই। আমরাই ঘটনা জানতাম না, পুলিশ ক্যামনে জানবো!’

কয়েকমাস ধরে চলতে থাকা নির্যাতনে অতিষ্ট গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যু হলেও বিষয়টিকে অপমৃত্যু বলছেন রাজিবপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান।

ওসি জানান, ‘ এমন কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। স্বামী স্ত্রী দুজনই বিষপান করলে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর অবস্থা উন্নতি হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’ গৃহবধূকে কয়েকমাস ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ ও ৫ দিন আগে বিষপানের ঘটনা এলাকায় আলোচিত হলেও তা পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলে দাবি ওসির।

তিনি  বলেন, ‘আমরা এমন অভিযোগ পাইনি। ভিকটিমের ( গৃহবধূর) মামা আমাদের বলেছেন যে তিনি বিষ খেয়েছেন। তাই অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাওনা টাকার জন্য গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ: বিচার না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৩০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

পাওনা টাকার জন্য গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ: বিচার না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপানে স্ত্রীর মৃত্যু

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিচার না পেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী একসাথে বিষপান করেন। এতে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৪ মে) ওই দম্পতি একসাথে বিষপান করেন। হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে বুধবার (২৯ মে) দুপুরে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম আশা বেগম। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। তাদের ঘরে তিন বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলপাড়া গ্রামের আবুসামার ছেলে জয়নাল মিয়া এবং তার সহযোগী কারিগর পাড়ার শুক্কুর কসাই, ডাকাত পাড়ার আলম কসাই ও টাঙ্গাইল পাড়ার সোলেমান।

মৃত্যুর আগে গত ২২ মে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে দেওয়া ওই গৃহবধূর জবানবন্দির একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তাতে ওই গৃহবধূ পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন। রোমহর্ষক বর্ণনায় উঠে এসেছে কীভাবে জয়নাল ও সহযোগীরা দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করেছে।

বর্ণনায় ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তার বাবা নেই। মা গৃহকর্মীর কাজে বিদেশে গেছেন। স্বামী টাঙ্গাইলে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীর ধার করা পাওনা টাকা দিতে না পারায় স্থানীয় জয়নাল মিয়া গত রমজান মাসের শুরু থেকে তাকে ধর্ষণ শুরু করেন। পরে তার সহযোগী আলম কসাই, শুক্কুর কসাই ও সোলেমান সহ তাকে দিনের পর দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে তিনি বাধ্য হয়ে তার স্বামীকে বিস্তারিত ঘটনা জানান। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার দিলেও মেলেনি।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, পাওনা টাকা আদায়ের অছিলায় প্রথমে জয়নাল মিয়া তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। পরে জয়নাল তার সহযোগী আলম, শুক্কুর ও সোলেমানকে নিয়ে এসে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মোবাইল ফোনে সেই ধর্ষণের ভিডিও করে তা প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানাতে ভয় দেখায়। এরপর ব্ল‍্যাকমেইল করে জয়নাল ও শুক্কুর মিলে তাকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতনে অতিষ্ট এই গৃহবধূ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাধ্য হয়ে বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানান।

তিনি বলেন, ‘এরপরও জয়নাল আবার ফোন দিয়ে আমার কাছে টাকার চাপ দেয় এবং টাকা কিভাবে তোলা লাগে সে হুমকিও দেয়।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইল থেকে ফিরে দেখি বউয়ের শরীর ভাইঙ্গা গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলে সে শুধু কান্নাকাটি করে। পরে সব জানতে পারি। বিচার চাইলে তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জয়নাল আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।’

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সহ স্থানীয়দের কাছে বিচার দিলেও কোনও সুরাহা মেলেনি।

এরপর গত শুক্রবার (২৪ মে) ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপে­ক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু আর্থিক সামর্থ না থাকায় এই দম্পতি বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার বাড়িতেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দম্পতির বিষপানের পর স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ম্যানেজ বাদেও ভুক্তভোগীদের ২০ হাজার টাকা দেওয়ার বিনিময়ে ঘটনা মিমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। জয়নাল ভুক্তভোগীদের চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা দিলেও তা নিতে অস্বীকৃতি জানান ওই দম্পতি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে জয়নাল মিয়ার নাম্বারে ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ ঘটনা গোপন ছিল। আমরা জানতাম না। আর ওই চ্যাংড়া (গৃহবধূর স্বামী) একেকবার একেক কথা কয়। বিষ খাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জয়নাল ২০ হাজার টাহা দিছে। হের স্বামী নেয় নাই।’

অভিযুক্তদের অবস্থান ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নে এই ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, ‘জয়নাল ও শুক্কুর কই আছে জানা নাই। আমরাই ঘটনা জানতাম না, পুলিশ ক্যামনে জানবো!’

কয়েকমাস ধরে চলতে থাকা নির্যাতনে অতিষ্ট গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যু হলেও বিষয়টিকে অপমৃত্যু বলছেন রাজিবপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান।

ওসি জানান, ‘ এমন কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। স্বামী স্ত্রী দুজনই বিষপান করলে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর অবস্থা উন্নতি হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’ গৃহবধূকে কয়েকমাস ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ ও ৫ দিন আগে বিষপানের ঘটনা এলাকায় আলোচিত হলেও তা পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলে দাবি ওসির।

তিনি  বলেন, ‘আমরা এমন অভিযোগ পাইনি। ভিকটিমের ( গৃহবধূর) মামা আমাদের বলেছেন যে তিনি বিষ খেয়েছেন। তাই অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

Facebook Comments Box