কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো প্রথা গরু দিয়ে হালচাষ
- আপডেট সময় : ০৪:২০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫ ৭৮৮০ বার পড়া হয়েছে
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো প্রথা গরু দিয়ে হালচাষ
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো প্রথা গরু দিয়ে হালচাষ।
গ্রামবাংলার পরিচিত সেই চিত্র আজ শুধুই স্মৃতি। কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো এই প্রথা।
শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে একসময় কৃষকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল গরু বা মহিষ দিয়ে হালচাষ। গ্রামবাংলার পরিচিত সেই চিত্র আজ শুধুই স্মৃতি। কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরোনো এই প্রথা।
এক সময় দেশের প্রতিটি গ্রামীণ জনপদে গরু-মহিষ দিয়ে হালচাষ ছিল দৈনন্দিন চিত্র। প্রতিটি সচ্ছল কৃষক পরিবারেই থাকত একাধিক জোড়া গরু বা মহিষ। শুধু জমি চাষ নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনেও গরু-মহিষের ব্যবহার ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির উত্থানে সেই চিত্র বদলে গেছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্রের প্রচলনে গরু দিয়ে হালচাষ আর নেই বললেই চলে।
পড়ুন>>যান্ত্রিকতার যুগে হারিয়ে গেছে কলাগাছের তৈরী বিয়ের গেট
কৃষি শ্রমের আধুনিকীকরণের ফলে যে কাজ একসময় একজন কৃষককে করতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম দিয়ে, তা এখন আধা ঘণ্টার মধ্যেই সম্ভব। সময়, শ্রম ও খরচ বাঁচায় কৃষকরা হয়ে উঠেছেন যন্ত্র নির্ভর। এর ফলে বিলুপ্তির পথে গরু বা মহিষ দিয়ে হালচাষের কষ্টসাধ্য কিন্তু পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রবীণ কৃষক দুলাল মিয়া জানান, আগে মৌসুমে মৌসুমে বিঘাপ্রতি চুক্তিতে গরু দিয়ে হালচাষ করতেন তিনি। আজ আর কেউ সেই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে না। আরেক কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমার জীবিকা ছিল গরু দিয়ে জমি চাষ। এখন কেউ আর গরুর হাল নেয় না। ফলে বাধ্য হয়ে সেই পেশা ছেড়ে দিয়েছি।”
তবে গরু দিয়ে হালচাষের একাধিক সুবিধাও ছিল। লাঙ্গলের ফলা মাটির গভীরে ঢুকে জমিকে করত নরম, কর্ষিত জমিতে আগাছাও হতো কম, ফলনও ভালো হতো। তবু যন্ত্রের গতির কাছে হার মেনেছে এই পদ্ধতি।
পড়ুন>> হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কুপিবাতি: আগামী প্রজন্মের কাছে কুপিবাতি শুধুই ইতিহাস
এখন ধান রোপণ থেকে শুরু করে কর্তন, মাড়াই, শুকানো— প্রতিটি ধাপেই যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করছেন নতুন প্রযুক্তি। ফলে বছরে যেখানে আগে দুবার ফসল হতো, এখন এক জমিতেই তিন-চারবারও ফসল ফলছে।
গরু-মহিষ পালনের চিত্রেও এসেছে ভিন্নতা। আগে যেখানে কৃষি কাজের সহায় হিসেবে গরু-মহিষ পালন হতো, এখন তা হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক। দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে খামার গড়ে উঠেছে গ্রামগঞ্জে। বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোতে দুধ উৎপাদনের হার বেড়েছে।
একসময় গ্রামে গাঁথা পদ্ধতিতে (কয়েকজন মিলে একত্রে চাষ) জমি কর্ষণ হতো, এখন সেই ঐতিহ্যও অতীত। কৃষি শ্রমিকের পারিশ্রমিকও বেড়েছে কয়েক গুণ।
ঝিনাইগাতীর কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, “বর্তমানে কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিকে করেছে গতিশীল ও লাভজনক।”
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























