ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানি বাণিজ্যে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আমদানি বাণিজ্যে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন সমন্বিত সার্কুলার প্রকাশ করেছে। গত এক বছরে আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩আগস্ট) প্রকাশিত এই নির্দেশনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতা কমবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-৩৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এখন একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত রূপ পেয়েছে।

পড়ুন>>শাকিবের নতুন সিনেমা ‘নিঃস্ব’: নায়িকা হিসেবে চূড়ান্ত ইধিকা পাল

 

এই সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের সব পুরোনো নির্দেশনামূলক সার্কুলার বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নিয়মগুলো আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা আসলে তা এর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োগ করা হবে।

নতুন এই কাঠামোতে আমদানি বাণিজ্যের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণপত্র বা এলসি খোলা, অনলাইন রিপোর্টিং, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ, বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ এবং আমদানি দায় পরিশোধের নিয়মাবলি।

 

পড়ুন>>১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেল শপআপের প্ল্যাটফর্ম সিল্ক

এছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি এবং বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নিয়মাবলিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়টিও এই সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশের ব্যবসায়ী মহল। ব্যবসায়ীদের মতে, ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মতো আধুনিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই নতুন কাঠামোর সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে হলে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমদানি বাণিজ্যে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

 

আমদানি বাণিজ্যে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন সমন্বিত সার্কুলার প্রকাশ করেছে। গত এক বছরে আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩আগস্ট) প্রকাশিত এই নির্দেশনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতা কমবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-৩৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এখন একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত রূপ পেয়েছে।

পড়ুন>>শাকিবের নতুন সিনেমা ‘নিঃস্ব’: নায়িকা হিসেবে চূড়ান্ত ইধিকা পাল

 

এই সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের সব পুরোনো নির্দেশনামূলক সার্কুলার বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নিয়মগুলো আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা আসলে তা এর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োগ করা হবে।

নতুন এই কাঠামোতে আমদানি বাণিজ্যের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণপত্র বা এলসি খোলা, অনলাইন রিপোর্টিং, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ, বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ এবং আমদানি দায় পরিশোধের নিয়মাবলি।

 

পড়ুন>>১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেল শপআপের প্ল্যাটফর্ম সিল্ক

এছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি এবং বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নিয়মাবলিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়টিও এই সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশের ব্যবসায়ী মহল। ব্যবসায়ীদের মতে, ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মতো আধুনিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই নতুন কাঠামোর সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে হলে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

 

 

 

Facebook Comments Box