রোকেয়া দিবস আমাদের প্রত্যয় হোক- ‘সমতা, শিক্ষা, মর্যাদা সবার জন্য’
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭০৫৪ বার পড়া হয়েছে
রোকেয়া দিবস আমাদের প্রত্যয় হোক—‘সমতা, শিক্ষা, মর্যাদা সবার জন্য’
রোকেয়া দিবস আমাদের প্রত্যয় হোক—‘সমতা, শিক্ষা, মর্যাদা—সবার জন্য’।
বাংলায় নারী জাগরণের ইতিহাসে যে নামটি পথপ্রদর্শকের মতো দীপ্যমান, তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর জন্মদিন ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস হিসেবে দেশে পালিত হয়। কেবল নারীশিক্ষা নয়, সামগ্রিক সমাজচেতনাকে বদলে দেওয়ার যে দৃষ্টিভঙ্গি তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—অধিকার, সম্মান, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; বরং সমাজের প্রতিটি মানুষই তা পাওয়ার যোগ্য।
রোকেয়ার সময় ছিল নারীকে অন্ধকারে আটকে রাখার সময়। পর্দার আড়ালে বন্দি নারীর শিক্ষার দাবি ছিল ‘দুঃসাহসিক’। কিন্তু রোকেয়া সেই দুঃসাহসই করলেন। নারীশিক্ষাকে তিনি কেবল লেখাপড়া শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেননি; বরং গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখেছেন।
তাঁর ভাষায়, “নারীর মুক্তি না হলে সমাজের অগ্রগতি অসম্ভব।” আজ যখন আমরা দেখছি শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, তখন মনে রাখতে হবে—এই পথচলার ভিত্তি রচনা করেছিলেন রোকেয়া।
তবে সাফল্যের গল্প যতই থাকুক, বাস্তবতা বলে—সমতা এখনও অর্জিত হয়নি। এখনো নারী হচ্ছে সহিংসতার শিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান, বাড়ছে অনিরাপত্তা। রোকেয়ার চেতনা তাই শুধু উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনারও আহ্বান। আমরা কি তাঁর দেখানো পথে যতটা এগোতে পারতাম, ততটা এগোতে পেরেছি? নারীশিক্ষার প্রসার হলেও প্রযুক্তি শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও নেতৃত্বের জায়গায় নারীর উপস্থিতি এখনও সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে রোকেয়া দিবস আমাদের নতুন প্রতিশ্রুতি নিতে শেখায়—সমাজে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই থামানো যাবে না। পরিবার থেকে রাষ্ট্র, শিক্ষা থেকে কর্মক্ষেত্র—সবখানেই সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ—এসব বাস্তবায়নে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোকেয়ার স্বপ্ন ছিল একটি যুক্তিবাদী, মানবিক, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা—যেখানে নারীকে দুর্বল ভাবা হয়নি, বরং সুনাগরিক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। রোকেয়া দিবস তাই অতীতকে মনে করিয়ে দেয়, বর্তমানের দায় বুঝতে শেখায় এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে অনুপ্রেরণা দেয়।
নারীর অধিকার শুধু নারীর বিষয় নয়—এটি সমাজের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের বিষয়। রোকেয়ার প্রগতিশীল চেতনা সামনে রেখে আমরা যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তি মজবুত করতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























