চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক-এ গলাকাটা শিশুটির মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ২৩১০৮ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক-এ গলাকাটা শিশুটির মৃত্যু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সহস্রধারা ঝরনা সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মামা গণমাধ্যমকে জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও ভোর ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গলায় ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। অস্ত্রোপচার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পড়ুন>> সীতাকুণ্ডে জঙ্গলে হাঁটছিল গলা কাটা শিশু
এর আগে রোববার (১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের সহস্রধারা ঝরণা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ের নির্জন পথে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা।
তারা নিজেদের পরনের কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন সোমবার দুপুরে জানান, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধর্ষণচেষ্টার আলামত পাওয়ার কথা জানান এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
পড়ুন>>এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতার সুখবর
এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, শিশুটির বাড়ি কুমিরার মছজিদদা এলাকায়। তার বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। এত কম বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত ভেতরে পৌঁছাল এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন>> সিরাজগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে দুই কর্মী নিহত
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক। সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”
শিশুটির পরিবার জানায়, দুই দিন ধরে পুলিশ তদন্ত চালালেও এখনো কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। ঘটনার আকস্মিকতা ও নির্মমতায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























