ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

হাটহাজারীতে গোলাবর্ষণে নিহত সৈনিক পিয়াসের শেষ বিদায়, শোকে স্তব্ধ মালিপাড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। এই দুর্ঘটনায় আরও এক সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। তিনি চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মালিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়। কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা জানান, গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুই নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পিয়াসের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাকরির সুবাদে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। ১৮ মাস আগে তার সংসারে কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তারের জন্ম হয়। বাবার শেষ বিদায়ে স্বজন ও এলাকাবাসী যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, তখন ছোট্ট ফাতেমা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। বাবার স্নেহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হওয়া এই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বেদনা কাজ করছে।

নিহতের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ জানান, পিয়াস ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত শান্ত ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা পিয়াস প্রতিবেশী ও স্বজনদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তার চাচা মোশারেফ হোসেন বলেন, পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শিশুটি। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকের কালো ছায়ায় ঢেকে গেল। স্থানীয় বাসিন্দা এবাদ উল্যাহ বলেন, পিয়াসের মতো একজন ভালো মানুষের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মাত্র ১৮ মাসের শিশুকে রেখে তার চলে যাওয়াটা এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা।

পিয়াসের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করেন শোকাতুর মানুষ। শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে আসা স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে মালিপাড়া গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কবিরহাট উপজেলাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিয়াসের শেষ বিদায়ে প্রিয়জন, স্বজন ও এলাকাবাসী যখন শোকে বিহ্বল, চোখ বেয়ে পড়ছে অশ্রু—ঠিক সেই মুহূর্তে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি তার ১৮ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়ে ফাতেমা আক্তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবার চলে যাওয়ার এই ব্যথা বোঝার বয়স এখনও তার হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সময়ের ব্যবধানে একদিন সে জানতে পারবে, দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তার বাবা না ফেরার দেশে চলে গেছেন; আর কোনোদিন ফিরবেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তো সেদিনই এই পরিবারের জন্য শোকের স্মৃতিটি আরও গভীর হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারকে ঘিরে ছিল তার ছোট্ট এক স্বপ্নের সংসার।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাটহাজারীতে গোলাবর্ষণে নিহত সৈনিক পিয়াসের শেষ বিদায়, শোকে স্তব্ধ মালিপাড়া

আপডেট সময় : ০৫:৫২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। এই দুর্ঘটনায় আরও এক সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। তিনি চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মালিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়। কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা জানান, গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিয়া ইসলাম জুই নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পিয়াসের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাকরির সুবাদে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। ১৮ মাস আগে তার সংসারে কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তারের জন্ম হয়। বাবার শেষ বিদায়ে স্বজন ও এলাকাবাসী যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, তখন ছোট্ট ফাতেমা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। বাবার স্নেহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হওয়া এই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বেদনা কাজ করছে।

নিহতের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ জানান, পিয়াস ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত শান্ত ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা পিয়াস প্রতিবেশী ও স্বজনদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তার চাচা মোশারেফ হোসেন বলেন, পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শিশুটি। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকের কালো ছায়ায় ঢেকে গেল। স্থানীয় বাসিন্দা এবাদ উল্যাহ বলেন, পিয়াসের মতো একজন ভালো মানুষের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মাত্র ১৮ মাসের শিশুকে রেখে তার চলে যাওয়াটা এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা।

পিয়াসের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করেন শোকাতুর মানুষ। শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে আসা স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে মালিপাড়া গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কবিরহাট উপজেলাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিয়াসের শেষ বিদায়ে প্রিয়জন, স্বজন ও এলাকাবাসী যখন শোকে বিহ্বল, চোখ বেয়ে পড়ছে অশ্রু—ঠিক সেই মুহূর্তে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি তার ১৮ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়ে ফাতেমা আক্তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবার চলে যাওয়ার এই ব্যথা বোঝার বয়স এখনও তার হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সময়ের ব্যবধানে একদিন সে জানতে পারবে, দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তার বাবা না ফেরার দেশে চলে গেছেন; আর কোনোদিন ফিরবেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তো সেদিনই এই পরিবারের জন্য শোকের স্মৃতিটি আরও গভীর হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারকে ঘিরে ছিল তার ছোট্ট এক স্বপ্নের সংসার।

Facebook Comments Box