ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা শুরু
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম মহানগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে নতুন একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই চুক্তির সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

পড়ুন>>আর্সেনালের সেট-পিস ঠেকাতে রাগবির ‘ট্যাকল প্যাড’ নিয়ে চেলসির অভিনব প্রস্তুতি

স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহ পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন ইসরাফিল খসরু।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে শুধু সরকারের একার পক্ষে সব চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়, তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি।

 

তিনি জানান, এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানেও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে নীলফামারী বৌদ্ধ বিহারে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচি পালিত

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সব দায়িত্ব সরকারের ওপর থাকলেও এখন পিপিপি মডেলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং এনজিওর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও সুফল পেতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষার ভিত্তিতে এই পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এসব এলাকার মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও উঠে আসে যে, ওই দুই ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানির জন্য ২৫ থেকে ৫০ টাকা ব্যয় করছেন।

 

এছাড়া এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির মান অত্যন্ত খারাপ; যেখানে জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম, সেখানে এখানকার পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই সংকট নিরসনে নতুন এই উদ্ভাবনী মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা শুরু

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম মহানগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে নতুন একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই চুক্তির সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

পড়ুন>>আর্সেনালের সেট-পিস ঠেকাতে রাগবির ‘ট্যাকল প্যাড’ নিয়ে চেলসির অভিনব প্রস্তুতি

স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহ পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন ইসরাফিল খসরু।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে শুধু সরকারের একার পক্ষে সব চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়, তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি।

 

তিনি জানান, এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানেও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে নীলফামারী বৌদ্ধ বিহারে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচি পালিত

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সব দায়িত্ব সরকারের ওপর থাকলেও এখন পিপিপি মডেলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং এনজিওর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও সুফল পেতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষার ভিত্তিতে এই পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এসব এলাকার মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও উঠে আসে যে, ওই দুই ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানির জন্য ২৫ থেকে ৫০ টাকা ব্যয় করছেন।

 

এছাড়া এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির মান অত্যন্ত খারাপ; যেখানে জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম, সেখানে এখানকার পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই সংকট নিরসনে নতুন এই উদ্ভাবনী মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box