ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের নিরাপত্তায় যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের

শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

 

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান শিশু সাইফ আহমেদকে হত্যার দায়ে তার সৎমা সাবরিনা নাহার সিনথীকে (২৪) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে এই দণ্ডাদেশ ঘোষণার পাশাপাশি আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

 

 

জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন। আসামির উপস্থিতিতেই বিচারক রায় পড়ে শোনান।

 

পড়ুন>>মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের সমঝোতা চুক্তি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম কাগমারা এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমনের সঙ্গে লিজার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর সাইফ তার দাদার কাছে বেড়ে উঠছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে ইমন সাবরিনা নাহার সিনথীকে বিয়ে করেন। দণ্ডিত সিনথী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে। বিবাহের পর তারা টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। টাঙ্গাইলের দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমন ২০০৯ সালে কালিহাতীর এলেঙ্গায় লিজা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে সাইফ আহমেদ নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে ইমনের সঙ্গে লিজার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। আর শিশু সাইফ (১০) থাকত তার দাদার কাছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ইমন তার ছেলে সাইফকে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরের দিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইমন বাইরে থাকার সুযোগে সিনথী পরিকল্পিতভাবে শিশুটির হাত-পা ও নাক-মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। এরপর পানিভর্তি বালতিতে মাথা ডুবিয়ে শিশুটিকে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৯ জানুয়ারি সাইফের দাদা সরোয়ার হোসেন টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে সিনথীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন তিনি। ২০২০ সালের ১৪ জুন পুলিশ আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শেফালী আক্তার।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

 

 

শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

 

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান শিশু সাইফ আহমেদকে হত্যার দায়ে তার সৎমা সাবরিনা নাহার সিনথীকে (২৪) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে এই দণ্ডাদেশ ঘোষণার পাশাপাশি আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

 

 

জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন। আসামির উপস্থিতিতেই বিচারক রায় পড়ে শোনান।

 

পড়ুন>>মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের সমঝোতা চুক্তি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম কাগমারা এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমনের সঙ্গে লিজার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর সাইফ তার দাদার কাছে বেড়ে উঠছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে ইমন সাবরিনা নাহার সিনথীকে বিয়ে করেন। দণ্ডিত সিনথী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে। বিবাহের পর তারা টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। টাঙ্গাইলের দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমন ২০০৯ সালে কালিহাতীর এলেঙ্গায় লিজা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে সাইফ আহমেদ নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে ইমনের সঙ্গে লিজার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। আর শিশু সাইফ (১০) থাকত তার দাদার কাছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ইমন তার ছেলে সাইফকে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরের দিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইমন বাইরে থাকার সুযোগে সিনথী পরিকল্পিতভাবে শিশুটির হাত-পা ও নাক-মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। এরপর পানিভর্তি বালতিতে মাথা ডুবিয়ে শিশুটিকে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৯ জানুয়ারি সাইফের দাদা সরোয়ার হোসেন টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে সিনথীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন তিনি। ২০২০ সালের ১৪ জুন পুলিশ আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শেফালী আক্তার।

Facebook Comments Box