দুই মাস পর ফিরবে মেয়ে, আশায় বুক বেঁধেছেন সুইটির
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সুইটি আক্তারের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রায় ১৫ দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। তখন সুইটি তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, দুই মাস পরই সে বাড়ি ফিরবে। অথচ এখন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তারা শুনতে পাচ্ছেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সুইটির বাবা ফজল মিয়া ও পরিবারটি এখনো সরকারিভাবে কোনো তথ্য পাননি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়।
প্রায় চার বছর আগে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করে সুইটিকে সৌদি আরবে পাঠান তার বাবা ফজল মিয়া। শুরুতে সুইটি বেশ ভালোই ছিল এবং প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছে। কিন্তু এরপরই বিপত্তি ঘটে; একদিন ফোন করে সুইটি জানায় যে তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। সে পরিবারকে জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। এর মাঝে প্রায় এক বছর মেয়ের কোনো খবর পাননি তারা। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি।
সুইটির বাবা জানান, ১৫ দিন আগে জেল থেকে মেয়ে শেষবার ফোন করেছিল, কিন্তু তখন সে কোনো বিচার বা রায়ের কথা উল্লেখ করেনি। উল্টো মুক্তির প্রতীক্ষার কথা জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে মেয়ের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরিবারটি অন্ধকারে রয়েছে। ফজল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, তা আমরা নিশ্চিত নই। শুধু মানুষের মুখে উড়ো খবর শুনছি, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’ জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, এ বিষয়ে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন নিশ্চিত করেছেন যে, সুইটির পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যেখানে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























