ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি অফিসে আ. লীগ কর্মীর কাণ্ড; ছবি ভাইরাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি অফিসে আ. লীগ কর্মী হারুন অর রশীদের ভাইরাল হওয়া ছবি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

বিএনপি অফিসে আ. লীগ কর্মীর কাণ্ড; ছবি ভাইরাল

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপি অফিসে চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খাচ্ছেন আওয়ামী লীগের এক কর্মী। এ সময় সামনে বসেছিলেন কয়েকজন। গতকাল রোববার (২৫ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ ধরনের একটি ছবি ভাইরাল হয়।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘জিয়ার সৈনিক’ নামে আইডি থেকে এই ছবিটি পোষ্ট করা হয়। বিএনপি অফিসে চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খাওয়া ব‍্যক্তির নাম হারুন আর রশিদ। সে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক।

 

 

    হারুন অর রশিদের টেবিলে পা তোলা ও হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘বাহ্! আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি কুখ্যাত ভূমি দস্যু একাব্বর চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হারুন বলে কথা।

 

বিএনপির অফিসে হাতে সিগারেট আর টেবিলে পা তুলে বসে থাকা সাধারণ জনগণকে মোটেও অবাক করেনি। কারণ এই এলাকায় স্বজনপ্রীতি রাজনৈতিক হালচাল। কিন্তু প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের সময় এ স্বজনগুলো কোথায় ছিল?

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে গাঁজা গাছসহ আটক ১

 

জানা গেছে, ওই অফিসে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা বসেন। তবে এটি ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। অফিসটি উপজেলার গারোবাজারে অবস্থিত। আর হারুন ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওই ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী। তার বাড়ি সিংহচালা গ্রামে। তার বাবা একাব্বর আলী ছিলেন বৃহত্তর রসুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে লক্ষিন্দর ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের জানান, জুলাই বিপ্লবের পর হারুন পালিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা থেকে ফেরত আসেন। পালাতে পারেননি। পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে আসেন হারুন। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। এর ফলেই তিনি পৌঁছে যান বিএনপির অফিস পর্যন্ত। ওই অফিসে দিন-রাত আড্ডাও দেন তিনি।

 

 

স্থানীয়রা জানায়, তিনমাস আগে বিএনপির এই অফিস উদ্বোধন করা হয়। ১৫ দিন না যেতেই হারুন ওই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন। সঙ্গে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের আরও অনেক নেতাকর্মী। রাত-দিন অফিসে আড্ডা দেন।

পড়ুন>>রাজারহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য ও লক্ষিন্দর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী আকন্দ জানান, আওয়ামী লীগ নেতার দোষ কম। আমাদের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা এই অফিস পরিচালনা করেন। অর্থ্যাৎ সিনিয়ররা আওয়ামী লীগদের সঙ্গে নিয়ে অফিসে বসেন। বিএনপির সিনিয়ররা আওয়ামী লীগ ছাড়া চলতে পারেন না। জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন হারুন। কিন্তু আমাদের কিছু লোক অভয় দিয়ে এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করেছে। মনে হয় অফিসটা আমাদের না, আওয়ামী লীগের অফিস।

 

 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় অভিযুক্ত হারুন জানান, এটা আসলে বিএনপির অফিস না। এটা খোলা ঘর। কারণে-অকারণে ওই ঘরে যাওয়া হয়। ওই ঘরটি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল তালুকদারের ভাই খোরশেদ তালুকদারের। সম্পর্কে ইকবাল তালুকদার আমার মামা। ছবিটি যে রাতে তোলা হয়েছে সেই রাতে ওই ঘরে আড্ডায় আমার সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

 

 

লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। গারোবাজারের ওই অফিসটা ইউনিয়ন বিএনপির না, ওটা ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। ওইখানে বসেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল তালুকদার।

 আরও পড়ুন>> যমুনায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান

 

এ বিষয়ে ইকবাল তালুকদার জানান, লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অফিসে বসেন। হারুন আমার বোনের দেবরের ছেলে। সম্পর্কে ভাগনে। কখন সে এই অফিসে এসে এ কাজ করেছে আমি জানি না।

 

 

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে যদি কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিএনপি অফিসে আ. লীগ কর্মীর কাণ্ড; ছবি ভাইরাল

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

 

বিএনপি অফিসে আ. লীগ কর্মীর কাণ্ড; ছবি ভাইরাল

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপি অফিসে চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খাচ্ছেন আওয়ামী লীগের এক কর্মী। এ সময় সামনে বসেছিলেন কয়েকজন। গতকাল রোববার (২৫ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ ধরনের একটি ছবি ভাইরাল হয়।

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘জিয়ার সৈনিক’ নামে আইডি থেকে এই ছবিটি পোষ্ট করা হয়। বিএনপি অফিসে চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খাওয়া ব‍্যক্তির নাম হারুন আর রশিদ। সে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক।

 

 

    হারুন অর রশিদের টেবিলে পা তোলা ও হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘বাহ্! আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি কুখ্যাত ভূমি দস্যু একাব্বর চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হারুন বলে কথা।

 

বিএনপির অফিসে হাতে সিগারেট আর টেবিলে পা তুলে বসে থাকা সাধারণ জনগণকে মোটেও অবাক করেনি। কারণ এই এলাকায় স্বজনপ্রীতি রাজনৈতিক হালচাল। কিন্তু প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের সময় এ স্বজনগুলো কোথায় ছিল?

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে গাঁজা গাছসহ আটক ১

 

জানা গেছে, ওই অফিসে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা বসেন। তবে এটি ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। অফিসটি উপজেলার গারোবাজারে অবস্থিত। আর হারুন ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওই ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী। তার বাড়ি সিংহচালা গ্রামে। তার বাবা একাব্বর আলী ছিলেন বৃহত্তর রসুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে লক্ষিন্দর ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের জানান, জুলাই বিপ্লবের পর হারুন পালিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা থেকে ফেরত আসেন। পালাতে পারেননি। পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে আসেন হারুন। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। এর ফলেই তিনি পৌঁছে যান বিএনপির অফিস পর্যন্ত। ওই অফিসে দিন-রাত আড্ডাও দেন তিনি।

 

 

স্থানীয়রা জানায়, তিনমাস আগে বিএনপির এই অফিস উদ্বোধন করা হয়। ১৫ দিন না যেতেই হারুন ওই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন। সঙ্গে নিয়ে যান আওয়ামী লীগের আরও অনেক নেতাকর্মী। রাত-দিন অফিসে আড্ডা দেন।

পড়ুন>>রাজারহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

 

উপজেলা বিএনপির সদস্য ও লক্ষিন্দর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী আকন্দ জানান, আওয়ামী লীগ নেতার দোষ কম। আমাদের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা এই অফিস পরিচালনা করেন। অর্থ্যাৎ সিনিয়ররা আওয়ামী লীগদের সঙ্গে নিয়ে অফিসে বসেন। বিএনপির সিনিয়ররা আওয়ামী লীগ ছাড়া চলতে পারেন না। জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন হারুন। কিন্তু আমাদের কিছু লোক অভয় দিয়ে এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করেছে। মনে হয় অফিসটা আমাদের না, আওয়ামী লীগের অফিস।

 

 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় অভিযুক্ত হারুন জানান, এটা আসলে বিএনপির অফিস না। এটা খোলা ঘর। কারণে-অকারণে ওই ঘরে যাওয়া হয়। ওই ঘরটি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল তালুকদারের ভাই খোরশেদ তালুকদারের। সম্পর্কে ইকবাল তালুকদার আমার মামা। ছবিটি যে রাতে তোলা হয়েছে সেই রাতে ওই ঘরে আড্ডায় আমার সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

 

 

লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। গারোবাজারের ওই অফিসটা ইউনিয়ন বিএনপির না, ওটা ২নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস। ওইখানে বসেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল তালুকদার।

 আরও পড়ুন>> যমুনায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান

 

এ বিষয়ে ইকবাল তালুকদার জানান, লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা এ অফিসে বসেন। হারুন আমার বোনের দেবরের ছেলে। সম্পর্কে ভাগনে। কখন সে এই অফিসে এসে এ কাজ করেছে আমি জানি না।

 

 

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে যদি কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Facebook Comments Box