ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈম

ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হলে দেশটির পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ইরফান আনসারি। বৃহস্পতিবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে এই কঠোর মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই নেতা। মনে রাখবেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের থেকেও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, এমনকি নেপালের থেকে দেশের অপরিস্তিতি খারাপ হতে পারে।

আনসারি দাবি করেন, দেশটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এখন রাস্তায় অবস্থান করছে এবং একটি নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। তিনি রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করে বলেন, রাহুল গান্ধী এতদিন তাদের আটকে রেখেছেন। মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, সরকার যদি দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনও করে, তবে কি শিক্ষার্থীদের পথ আটকানো সম্ভব হবে? প্রায় ৪০ লাখ তরুণ রাস্তায় রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই ঘরের সামনে অবস্থান করছে, কেবলমাত্র একটা নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আমি দিল্লিতে গিয়েছিলাম, সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। ওরা কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী ছাড়া এক পাও এগোবে না। সেনাবাহিনী কি আমাদের শিক্ষার্থীদের পথ আটকাতে পারবে? ”।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, কৃষক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী ও মুসলিমসহ সমাজের বিভিন্ন অংশ চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশে জরুরি অবস্থার (ইমারজেন্সি) মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আমার কথাটি লিখে রাখুন, পরিস্থিতি বাংলাদেশ বা নেপালের চেয়েও খারাপ হয়ে যেতে পারে। আর এরপরই দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন আনসারি। তিনি বলেন, ‘দেশের চাহিদাটা কি? জ্ঞানেশ কুমার, আপনারা ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ১৩ কোটি যে কত বড় সংখ্যা, তা কি আপনারা জানেন?’

এদিকে আনসারির এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি তার এই বক্তব্যকে ‘নৈরাজ্যের ভাষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ঝাড়খন্ড মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণের দাবি তুলেছে ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি)। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে মহাসমাবেশ করেছিল। বিরোধী দলগুলো তালিকা সংশোধন বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সরব রয়েছে। এই ইস্যুতে গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিজেপি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হলে দেশটির পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ইরফান আনসারি। বৃহস্পতিবার ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে এই কঠোর মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই নেতা। মনে রাখবেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের থেকেও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, এমনকি নেপালের থেকে দেশের অপরিস্তিতি খারাপ হতে পারে।

আনসারি দাবি করেন, দেশটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এখন রাস্তায় অবস্থান করছে এবং একটি নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। তিনি রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করে বলেন, রাহুল গান্ধী এতদিন তাদের আটকে রেখেছেন। মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, সরকার যদি দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনও করে, তবে কি শিক্ষার্থীদের পথ আটকানো সম্ভব হবে? প্রায় ৪০ লাখ তরুণ রাস্তায় রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই ঘরের সামনে অবস্থান করছে, কেবলমাত্র একটা নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আমি দিল্লিতে গিয়েছিলাম, সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। ওরা কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী ছাড়া এক পাও এগোবে না। সেনাবাহিনী কি আমাদের শিক্ষার্থীদের পথ আটকাতে পারবে? ”।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, কৃষক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী ও মুসলিমসহ সমাজের বিভিন্ন অংশ চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশে জরুরি অবস্থার (ইমারজেন্সি) মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আমার কথাটি লিখে রাখুন, পরিস্থিতি বাংলাদেশ বা নেপালের চেয়েও খারাপ হয়ে যেতে পারে। আর এরপরই দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন আনসারি। তিনি বলেন, ‘দেশের চাহিদাটা কি? জ্ঞানেশ কুমার, আপনারা ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ১৩ কোটি যে কত বড় সংখ্যা, তা কি আপনারা জানেন?’

এদিকে আনসারির এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি তার এই বক্তব্যকে ‘নৈরাজ্যের ভাষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ঝাড়খন্ড মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণের দাবি তুলেছে ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি)। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে মহাসমাবেশ করেছিল। বিরোধী দলগুলো তালিকা সংশোধন বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সরব রয়েছে। এই ইস্যুতে গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিজেপি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।

Facebook Comments Box