ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈম আলোক হেলথকেয়ারে ১০ জনের চাকরির সুযোগ, বেতন ২৫ হাজার টাকা পারস্য উপসাগরে কাতার উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কোণঠাসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে বড় পরিকল্পনা ও রেকর্ড বরাদ্দ সরকারের দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের টেকনাফে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক সেনাসদস্য

মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। আইন, অভিযান এবং একাধিক সরকারি সংস্থার নজরদারি থাকার পরও ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাড়ির চলাচল কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গ্রামীণ সংযোগ সড়ক দিয়ে অবাধে এসব অটোরিকশা উঠে পড়ছে মহাসড়কে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা চেকপোস্ট এড়িয়ে এসব ধীরগতির যান মহাসড়কে চলায় পথচারী থেকে শুরু করে যাত্রী ও চালকরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ার শান্তিরহাটে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক নিহত এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় বাস ও চালককে আটক করে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে যে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান চলাচল রোধে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব রয়েছে, সেখানে রিকশাটি কীভাবে উঠল, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও একই ধরনের যান বারবার মহাসড়কে প্রবেশ করায় বিকল্প নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে চালক জিসান ও যাত্রী হাসান গুরুতর আহত হন।

গত ১০ অক্টোবর রাত ১২টা ২০ মিনিটে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার হোয়াইট প্লাস ক্লাবের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রিকশাচালক আবদুল হাকিম জিসানের (২৫) বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া এলাকায় এবং তিনি কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকায় থাকতেন। আহত যাত্রী মো. হাসানের (৩৮) বাড়ি নগরের বাকলিয়া কালামিয়া বাজার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, পূরবী পরিবহনের বাসের ধাক্কায় রিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয়রা বাসচালক মো. মহিউদ্দিনকে (৪৩) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাদের প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ রিকশার দাপটে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। গত ২ নভেম্বর সাতকানিয়ার পুরানগড়ে অটোরিকশার ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম টিসাত (১২) নামে এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এর আগে গত ২৫ মার্চ সাতকানিয়ার বিওসি মোড় ওয়াপদা সংলগ্ন এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দুই যাত্রী রনজিত ধর ও বাবুল দে নিহত হন। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৭টি সিএনজি ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—দোহাজারী পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড দাশপাড়ার মৃত নিরঞ্জন ধরের ছেলে রনজিত ধর এবং একই এলাকার মৃত মনিন্দ্র দের ছেলে বাবুল দে ওরফে বালি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ধীরগতির ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের কারণে গতির বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা দৃশ্যমানতার অভাব, সংযোগ সড়ক দিয়ে হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসা এবং চালকদের অসতর্কতায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অননুমোদিত গাড়ি আটকের বিধান থাকলেও মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে পাহারা দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট মহাসড়কে কোনো ধরনের গাড়ি চলতে পারবে, তা প্রযোজ্য আইন, বিধি ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে নির্ধারিত হয়।

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৫ জুন মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে চালকের লাইসেন্স, নিবন্ধন ও রুট ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। তবে থ্রি হুইলারের বিরুদ্ধে নজরদারির সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. সাকায়েত হোসেন জানান, নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে মামলা দায়ের এবং জব্দ করা যানবাহন ডাম্পিং করা হচ্ছে। তবে পটিয়া অংশে বহু সংযোগ সড়ক থাকায় পর্যাপ্ত জনবল ও টহল গাড়ির অভাবে প্রতিটি পয়েন্ট সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। পুলিশ একদিক চলে গেলে অন্যদিক দিয়ে এসব রিকশা আবারও মহাসড়কে উঠে পড়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও গতিসীমা নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে, যা মাথায় রেখে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। তবে তিনি মনে করেন, কেবল সাইনবোর্ড যথেষ্ট নয়, বরং অবৈধ যান প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ ও দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা জরুরি। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। যেসব স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি, সেখানে গতিসীমা নির্দেশক, গতি নিয়ন্ত্রক ও সড়কের বিভিন্ন চিহ্নসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়মিত নেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র

আপডেট সময় : ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। আইন, অভিযান এবং একাধিক সরকারি সংস্থার নজরদারি থাকার পরও ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাড়ির চলাচল কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গ্রামীণ সংযোগ সড়ক দিয়ে অবাধে এসব অটোরিকশা উঠে পড়ছে মহাসড়কে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা চেকপোস্ট এড়িয়ে এসব ধীরগতির যান মহাসড়কে চলায় পথচারী থেকে শুরু করে যাত্রী ও চালকরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ার শান্তিরহাটে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক নিহত এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় বাস ও চালককে আটক করে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে যে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান চলাচল রোধে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব রয়েছে, সেখানে রিকশাটি কীভাবে উঠল, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও একই ধরনের যান বারবার মহাসড়কে প্রবেশ করায় বিকল্প নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে চালক জিসান ও যাত্রী হাসান গুরুতর আহত হন।

গত ১০ অক্টোবর রাত ১২টা ২০ মিনিটে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার হোয়াইট প্লাস ক্লাবের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রিকশাচালক আবদুল হাকিম জিসানের (২৫) বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া এলাকায় এবং তিনি কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকায় থাকতেন। আহত যাত্রী মো. হাসানের (৩৮) বাড়ি নগরের বাকলিয়া কালামিয়া বাজার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, পূরবী পরিবহনের বাসের ধাক্কায় রিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয়রা বাসচালক মো. মহিউদ্দিনকে (৪৩) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাদের প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ রিকশার দাপটে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। গত ২ নভেম্বর সাতকানিয়ার পুরানগড়ে অটোরিকশার ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম টিসাত (১২) নামে এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এর আগে গত ২৫ মার্চ সাতকানিয়ার বিওসি মোড় ওয়াপদা সংলগ্ন এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দুই যাত্রী রনজিত ধর ও বাবুল দে নিহত হন। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৭টি সিএনজি ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—দোহাজারী পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড দাশপাড়ার মৃত নিরঞ্জন ধরের ছেলে রনজিত ধর এবং একই এলাকার মৃত মনিন্দ্র দের ছেলে বাবুল দে ওরফে বালি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ধীরগতির ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের কারণে গতির বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা দৃশ্যমানতার অভাব, সংযোগ সড়ক দিয়ে হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসা এবং চালকদের অসতর্কতায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অননুমোদিত গাড়ি আটকের বিধান থাকলেও মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে পাহারা দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট মহাসড়কে কোনো ধরনের গাড়ি চলতে পারবে, তা প্রযোজ্য আইন, বিধি ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে নির্ধারিত হয়।

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৫ জুন মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে চালকের লাইসেন্স, নিবন্ধন ও রুট ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। তবে থ্রি হুইলারের বিরুদ্ধে নজরদারির সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. সাকায়েত হোসেন জানান, নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে মামলা দায়ের এবং জব্দ করা যানবাহন ডাম্পিং করা হচ্ছে। তবে পটিয়া অংশে বহু সংযোগ সড়ক থাকায় পর্যাপ্ত জনবল ও টহল গাড়ির অভাবে প্রতিটি পয়েন্ট সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। পুলিশ একদিক চলে গেলে অন্যদিক দিয়ে এসব রিকশা আবারও মহাসড়কে উঠে পড়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও গতিসীমা নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে, যা মাথায় রেখে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। তবে তিনি মনে করেন, কেবল সাইনবোর্ড যথেষ্ট নয়, বরং অবৈধ যান প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ ও দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা জরুরি। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। যেসব স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি, সেখানে গতিসীমা নির্দেশক, গতি নিয়ন্ত্রক ও সড়কের বিভিন্ন চিহ্নসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়মিত নেওয়া হয়।

Facebook Comments Box