বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নিচ্ছেন না—এমনটি জানার পরপরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দিল্লি চাইছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর মতো জটিল বিষয়গুলোতে আটকে না থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। এই সফর নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এমনকি তারেক রহমান যাতে খালি হাতে ফিরে না যান, সেজন্য তাকে ‘অভাবনীয়’ কোনো কূটনৈতিক উপহার দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যমে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে দ্রুত নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে এই আমন্ত্রণ জানান। ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে রেল, সড়ক যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সফরটি সম্পন্ন হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হবে, কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরপরই হাইকমিশনার দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মনোভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে জোর প্রস্তুতি চলছে। এই সফর সফল হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। সফরের অংশ হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনের এই সফরটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও সময়সূচিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।
ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।
হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া মনোভাবের মুখে পড়েছে ভারত।
এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।
একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও হয়ে উঠতে পারে।
তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: মানবজমিন
Leave a Reply