ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে হ্নীলা মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত; উদ্ধার ৫৭ জিম্মি ভূরুঙ্গামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় নানা আয়োজনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত তাড়াশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নাগেশ্বরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী রতন হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে থানার সামনে মানববন্ধন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ, তেহরানের ৭ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনে

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ ৫৯৮৬ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু সচেতনতার আহবান ভূরুঙ্গামারী সার্কেল এএসপির।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সার্কেলে মুনতাসির মামুন মুন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগদানের পরপরই এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার নিজ জেলা গাইবান্ধা। তার অধীনস্থ ভূরুঙ্গামারী থানা ও কচাকাটা থানা।

 

 

৩ অক্টোবর সকালে তিনি  ঐ স্ট্যাটাসে লিখেছেন,  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে কচাকাটা থানা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কুড়ারপাড় এলাকায় পথচারীদের ভিড়, কান্না ও চিৎকার শুনে থেমে যান।

 

 

তিনি গাড়ি থেকে নেমে দেখেন, দুই বছরের কম বয়সী এক শিশু পানিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাস্তায় কোনো পরিবহন না থাকায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ সময় এএসপি মুন নিজেই তার সরকারি গাড়িতে শিশুটিকে অভিভাবকসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

তিনি আরও লিখেছেন, গত ১০ দিনের তথ্য অনুযায়ী, ভূরুঙ্গামারী ও কচাকাটা থানা এলাকায় পানিতে ডুবে অন্তত পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি এএসপি মুনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

পড়ুন>> এনসিপিকে লাউ-বেগুন-কলা-থালা-খাটসহ ৫০টি প্রতীকের তালিকা ইসির

 

তিনি ভূরুঙ্গামারীবাসীর উদ্দেশে বলেন, “এভাবে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আপনাদের শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নবান ও সতর্ক হতে হবে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।”

 

 

এএসপির এই মানবিক ও সচেতনতার আহ্বানমূলক পোস্টে ফেসবুকে অনেক মানুষ মন্তব্য করেছেন। কেউ অভিভাবকদের আরও সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন, কেউবা এএসপি মুনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, “এমন আন্তরিক ও দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত।”

ফেসবুকে পোস্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি জীবনে অনেক কিছুই সহ্য করতে পেরেছেন, কিন্তু নিষ্পাপ শিশুদের এই মৃত্যুকে তিনি সহ্য করতে পারছেন না।

 

 

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা যেন বিশেষ করে এই মৌসুমে বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে নেট দিয়ে ঘের তৈরি করেন এবং বাচ্চাদের সবসময় নিজেদের কাছে রাখেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে পানিতে ডুবে দশ দিনে পাঁচ মৃত্যু সচেতনতার আহবান ভূরুঙ্গামারী সার্কেল এএসপির।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সার্কেলে মুনতাসির মামুন মুন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগদানের পরপরই এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার নিজ জেলা গাইবান্ধা। তার অধীনস্থ ভূরুঙ্গামারী থানা ও কচাকাটা থানা।

 

 

৩ অক্টোবর সকালে তিনি  ঐ স্ট্যাটাসে লিখেছেন,  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে কচাকাটা থানা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কুড়ারপাড় এলাকায় পথচারীদের ভিড়, কান্না ও চিৎকার শুনে থেমে যান।

 

 

তিনি গাড়ি থেকে নেমে দেখেন, দুই বছরের কম বয়সী এক শিশু পানিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাস্তায় কোনো পরিবহন না থাকায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ সময় এএসপি মুন নিজেই তার সরকারি গাড়িতে শিশুটিকে অভিভাবকসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

তিনি আরও লিখেছেন, গত ১০ দিনের তথ্য অনুযায়ী, ভূরুঙ্গামারী ও কচাকাটা থানা এলাকায় পানিতে ডুবে অন্তত পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি এএসপি মুনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

পড়ুন>> এনসিপিকে লাউ-বেগুন-কলা-থালা-খাটসহ ৫০টি প্রতীকের তালিকা ইসির

 

তিনি ভূরুঙ্গামারীবাসীর উদ্দেশে বলেন, “এভাবে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আপনাদের শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নবান ও সতর্ক হতে হবে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।”

 

 

এএসপির এই মানবিক ও সচেতনতার আহ্বানমূলক পোস্টে ফেসবুকে অনেক মানুষ মন্তব্য করেছেন। কেউ অভিভাবকদের আরও সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন, কেউবা এএসপি মুনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, “এমন আন্তরিক ও দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত।”

ফেসবুকে পোস্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি জীবনে অনেক কিছুই সহ্য করতে পেরেছেন, কিন্তু নিষ্পাপ শিশুদের এই মৃত্যুকে তিনি সহ্য করতে পারছেন না।

 

 

তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা যেন বিশেষ করে এই মৌসুমে বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে নেট দিয়ে ঘের তৈরি করেন এবং বাচ্চাদের সবসময় নিজেদের কাছে রাখেন।

 

 

Facebook Comments Box