৫ ছাত্র নিয়ে ডিমলার প্রাথমিক স্কুলে বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
৫ ছাত্র নিয়ে ডিমলার প্রাথমিক স্কুলে বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

৫ ছাত্র নিয়ে ডিমলার প্রাথমিক স্কুলে বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষা

ডিমলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
খালিশা চাপানি ইউনিয়নের কাকিনা শিশু বিকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

 

৫ ছাত্র নিয়ে ডিমলার প্রাথমিক স্কুলে বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষা

 

 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের কাকিনা শিশু বিকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকট, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকজনে।

 

 

 

শনিবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বিদ্যালয়ে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করছিলেন। পাশের চতুর্থ শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। তৃতীয় শ্রেণির কক্ষ ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা।

পড়ুন>> রাজারহাটে পুলিশের সামনেই শিবির নেতাদের উপর হামলা

 

 

একই সময়ে পাশের একটি কক্ষে একজন শিক্ষককে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত সরে যান।

 

 

 

এদিকে প্রাক্-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা তড়িঘড়ি করে হাজিরা খাতা পূরণ করতে শুরু করেন, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

 

বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭২ জন। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

 

 

 

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পড়ুন>>বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

 

 

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন, “স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। তাই বাচ্চাদের পাঠাতে আগ্রহ পাই না।”
অন্য অভিভাবক রহিমা বেগমের ভাষ্য, “পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় অনেকেই সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।”

 

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোনাব্বর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে সরকারি ল্যাপটপ বাসায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “স্কুলে জিনিসপত্র নিরাপদে রাখা যায় না, চুরির আশঙ্কা থাকে।”
শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, “কাগজে-কলমে ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন আসে। কয়েকদিন আগে পাশের পুকুরে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছে।”

 

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতিই শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

 

 

ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ

 

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

 

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে হলে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান চালু রাখা এবং কার্যকর তদারকি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও উদ্যোগ নিতে হবে।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!