পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার আদেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর থেকে এটি তার জন্য আদালতের পক্ষ থেকে পাওয়া অন্যতম বড় একটি আইনি সুবিধা। ইমরান খান বরাবরই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
আদালতের নির্দেশনায় চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ কয়েক মাস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা করার সুযোগ ছিল না, যদিও মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ইমরান খান বর্তমানে চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কারাগারের ভেতরে তিনি পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও তারা অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে তার একজন আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যদিও পাকিস্তান সরকার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরান খানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকেও যুক্ত রাখা হবে। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে আদালত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য তার দলকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে আদালত।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের আগস্টে কারাগারে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও গত বছরের শেষ দিকে একটি পৃথক মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ কঠোর ধরপাকড় অভিযান পরিচালনা করে। ডে/ বা
Leave a Reply