মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সুস্থতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী বলে দাবি করলেও, তাঁর শারীরিক উপসর্গ ও প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের অসংগতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন খ্যাতনামা মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোনাথন রেইনার। তিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডা. রেইনার ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু অস্পষ্টতা তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ট্রাম্পের হাতে ফুটে ওঠা কালশিটে দাগ। হোয়াইট হাউস একে ঘন ঘন হাত মেলানো ও অ্যাসপিরিন সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, ডা. রেইনারের মতে উভয় হাতের সমান বিবর্ণতা কেবল এই সাধারণ কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়। এছাড়া, প্রেসিডেন্টের পা ফুলে যাওয়ার সমস্যাকে হোয়াইট হাউস ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’ বা শিরাগত রক্ত সঞ্চালনের দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ গত মে মাসের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই সমস্যার কোনো উল্লেখ ছিল না, যা হঠাৎ করে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা দিনের বেলা ঘুমঘুম ভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. রেইনার। তাঁর মতে, এটি কোনো গভীর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য জরুরি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন। এছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্পের হৃৎযন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষা করানো হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা একে সাধারণ আগাম পরীক্ষা বলে দাবি করলেও, ঠিক কী কারণে এত বিস্তৃত ও জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছিল, তা জনসমক্ষে খোলাসা করা হয়নি।
ডা. রেইনার স্বীকার করেছেন যে, নিরাপত্তার স্বার্থে একজন রাষ্ট্রপতির সব গোপন চিকিৎসা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিশ্চিত করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি ‘স্বাধীন চিকিৎসা প্যানেল’ গঠনের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
ডা. রেইনারের মতে, মূল বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না—সে বিষয়ে আমেরিকার জনগণ কতটুকু নিশ্চিত হতে পারছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা
Leave a Reply