বিশ্বজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও ভুল বোঝাবুঝি প্রশমনের লক্ষ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগাম তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ৪১টি দেশ। এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেনসহ আরও বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র। মূলত আকস্মিক উৎক্ষেপণ থেকে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ও সামরিক অস্থিরতা এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা মহাকাশযান উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। নোটিশে উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন এবং সম্ভাব্য গতিপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের আগাম বার্তা ছাড়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে তা ভুলবশত প্রকৃত হামলা হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা থেকে বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া বা আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এই অঞ্চলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ৪১টি দেশ মনে করছে, অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ প্রদান করা হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর্যাপ্ত সময় পাবে। এর ফলে ভুল হিসাব বা ভুল প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এই আহ্বানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সব বড় ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিধর দেশ যদি এই উদ্যোগে শামিল না হয়, তবে এর সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ডেইলি টেলিগ্রাফ, রয়টার্স ও মিডল ইস্ট মনিটরের তথ্যানুযায়ী, এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
৪১ দেশের এই আহ্বানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্তুগাল, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্য।
সূত্র: Daily Amar Desh
Leave a Reply