বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে যখন স্পেনের ফুটবলাররা ট্রফি নিয়ে উৎসবে মেতেছিলেন, তখনও প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। ফাইনাল ম্যাচের পর তার কণ্ঠে উঠে এসেছে ফুটবল কিংবদন্তি মেসির প্রতি গভীর সম্মান, যা শিরোপা জয়ের উৎসবের মাঝেও আলাদা করে নজর কেড়েছে।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে স্পেন অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে রদ্রি বলেন, ফাইনালের আগে আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে মেসির পাশে দাঁড়ানোর মুহূর্তটি তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ ছিল।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, কিক-অফের আগে অধিনায়কদের ফটোসেশনে মেসির পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। ফুটবলের জন্য তিনি যা প্রতিনিধিত্ব করেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
ফাইনাল শেষে মেসির চোখের জলও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে স্প্যানিশ অধিনায়ককে। রদ্রি বলেন, “ম্যাচ শেষে আমি তাকে কাঁদতে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, একজন ফুটবলার হিসেবে এবং আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, সেটার গুরুত্ব অনুভব করেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। তার অর্জন এবং ফুটবলে রেখে যাওয়া অবদানের প্রতি আমার শুধু গভীর শ্রদ্ধাই রয়েছে।”
বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জিতেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২৪ ইউরোর সেরা খেলোয়াড় এবং ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরও জয় করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল নতুন ইতিহাস গড়েছে। সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে তারা শিরোপা জিতেছে। এই সময়ের মধ্যে স্পেন ২০২৩ নেশনস লিগ, ইউরো ২০২৪ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতেছে; সেই সাথে ২০২৫ নেশনস লিগে তারা রানার্সআপ হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই তার চোখে জল দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মঞ্চেও মেসির প্রতি রদ্রির সম্মান ফুটবল বিশ্বে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
Leave a Reply