শহুরে জীবনে বারান্দা, ছাদ কিংবা বাড়ির আঙিনায় টবে লেবু গাছ লাগানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে অনেকেই গাছের যত্ন নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত ফুল ও ফল পাচ্ছেন না। গাছে পাতা ও ডালপালা বাড়লেও ফুল না আসার পেছনে রয়েছে কয়েকটি সাধারণ কারণ। সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে টবের লেবু গাছেও ভালো ফুল ও ফল পাওয়া সম্ভব।
লেবু গাছে ফুল না আসার অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব। তাই গাছটিকে এমন স্থানে রাখতে হবে, যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত আলো না পেলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফুল ধরাও কমে যেতে পারে।
অনেকেই গাছ দ্রুত বড় করার জন্য অতিরিক্ত ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করেন। এতে গাছের পাতা ও ডালপালা বেশি বাড়লেও ফুল ও ফল কমে যেতে পারে। তাই শুধু নাইট্রোজেননির্ভর সার না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ফসফরাস, পটাশসমৃদ্ধ সার ও সামান্য বোরণ ব্যবহার করতে হবে।
লেবু গাছের টবের মাটি সবসময় পানিতে ভেজা রাখা ঠিক নয়। মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে। একই সঙ্গে টবের নিচে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পানি জমে থাকলে শিকড় পচে গিয়ে গাছ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
লেবু গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও ফুল-ফল ধরাতে পচা গোবর, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণভাবে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর পরিমিত জৈব সার দেওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে উপকারের পরিবর্তে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
গাছের শুকনো, দুর্বল ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দেওয়া যেতে পারে। এতে গাছের ভেতরে আলো-বাতাস চলাচল বাড়ে এবং নতুন ডাল বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সুস্থ ও নতুন ডাল অযথা বেশি ছাঁটাই করা উচিত নয়।
বীজ থেকে তৈরি লেবু গাছে ফুল ও ফল আসতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে কলম বা গ্রাফট করা গাছে অপেক্ষাকৃত দ্রুত ফুল-ফল আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই গাছের বয়স ও জাত বিবেচনায় নিতে হবে।
টবের লেবু গাছে ফুল ও ফল পেতে নিয়মিত পর্যাপ্ত রোদ, পরিমিত পানি, সুষম সার এবং ভালো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার না করে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব ও সুষম সার ব্যবহার করাই ভালো।
সঠিক পরিচর্যা বজায় রাখলে বাড়ির ছোট টবেও সুস্থ-সবল লেবু গাছ তৈরি করা সম্ভব এবং সময়মতো গাছে ফুল ও ফল ধরানো যায়।
Leave a Reply