ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬।
ভগবান পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে উপজেলার জয়কালী-রাজবাড়ী এলাকার রাধামাধব মন্দিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ উৎসবে সকাল থেকেই রাধামাধব মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের সমাগম ঘটে।
শ্রীকৃষ্ণের পূজা-অর্চনা,ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
পরে রাধামাধব মন্দিরের সভাপতি সুধির চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো.জাহিদুর রহমান জাহিদ।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মাহামুদুর নবী পান্না বিশ্বাস, নন্দুয়ার বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম,অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গপেনন্দ্রনাথ রায় প্রমুখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সনাতন ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতা,সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা মানুষকে অন্যায়, অসত্য ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় কীর্তন ও বিশেষ আরতি। কীর্তনের সুর ও ভক্তদের ধর্মীয় সংগীতে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অপার্থিব আবহ। আরতিতে অংশ নিয়ে ভক্তরা দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করেন। আয়োজকরা জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও রাধামাধব মন্দিরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। জন্মাষ্টমী উৎসবকে ঘিরে রাধামাধব মন্দির ও আশপাশের এলাকায় দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। ভক্তদের পদচারণা, কীর্তনের সুর ও ধর্মীয় নানা আয়োজনে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
Leave a Reply